https://www.effectivegatecpm.com/rn8qbtaqk?key=a6bb032d522890bffe519fa4928f6d14 ‘সাদ্দাম আপনি কাঁদেন, অনেক কাঁদেন, চিৎকার করে কাঁদেন’: শাওনের আবেগঘন পোস্ট - Gaibandha Online Portal

Breaking News

‘সাদ্দাম আপনি কাঁদেন, অনেক কাঁদেন, চিৎকার করে কাঁদেন’: শাওনের আবেগঘন পোস্ট

 কারাগারে লেখা একটি চিঠির শেষ দুই লাইনের বেদনাই যেন বাস্তবে রক্তক্ষরণ হয়ে ধরা দিল যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে। অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেছেন এক হৃদয়বিদারক পোস্ট, যেখানে তিনি তুলে ধরেছেন কারাবন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দাম ও তার পরিবারের নির্মম পরিণতির কথা। 

‘সাদ্দাম আপনি কাঁদেন, অনেক কাঁদেন, চিৎকার করে কাঁদেন’: শাওনের আবেগঘন পোস্ট

শাওন জানান, কারাগারে থাকা অবস্থায় সাদ্দাম একটি চিঠিতে লিখেছিলেন—
“মায়ের দিকে খেয়াল রাখিস। আমার ছেলেটাকে কোলে নিতে পারলাম না—এইটাই কষ্ট।”

পোস্টে শাওন লেখেন, সেই ছেলেটা আজ বাবার কোলে উঠেছে। তবে সঙ্গে সঙ্গে তিনি সংশোধন করেন—
“দুঃখিত, ভুল বললাম। কারা ফটকে সাদ্দাম আজ তার নয় মাস বয়সী ‘মৃত’ ছেলেটাকে প্রথমবারের মতো কোলে নিয়েছে।”

শাওনের ভাষ্য অনুযায়ী, যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে অ্যাম্বুলেন্সে করে আনা হয় সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুর্বনা স্বর্ণালী ও নয় মাসের শিশু সন্তান নাজিমের মরদেহ। সেখানে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য সাদ্দামকে মরদেহ দেখার সুযোগ দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। সেই সময় সন্তানকে কোলে নিয়ে স্ত্রীর নিথর দেহ স্পর্শ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি—এমন দৃশ্য গণমাধ্যমেও উঠে আসে।

ফেসবুক পোস্টে শাওন আরও লেখেন,
“সাদ্দাম আপনি কাঁদেন। অনেক কাঁদেন। চিৎকার করে কাঁদেন। তারপর অভিশাপ দেন সেই মানুষরূপী অমানুষগুলোকে—যাদের কারণে আজ আপনার এই দিন দেখতে হলো।”

পোস্টের শেষাংশে তিনি রাষ্ট্র ও দায়িত্বশীলদের প্রতিও প্রশ্ন ছুড়ে দেন। শাওনের প্রশ্ন—
“কোনো জাদুঘরে কি এই চিঠির স্থান হবে মাননীয় উপদেষ্টাদের দল?”

উল্লেখ্য, রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় প্যারোলে মুক্তির অনুমতি পাননি। স্বজনদের আবেদনের পর মরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

পুলিশ জানায়, বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে কানিজ সুর্বনা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ এবং তার শিশু সন্তানের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে হতাশাজনিত কারণে সন্তান হত্যার পর আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—মানবিক বিবেচনায় প্যারোল না দেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা ন্যায়সঙ্গত ছিল।

কোন মন্তব্য নেই

মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷