গাইবান্ধায় দাদনের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে ওষুধ ব্যবসায়ীর বিষপানে আত্নহত্যা
গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার বড়গোপালপুর গ্রামের ওষুধ ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান খন্দকার রাজু দাদন ব্যবসায়ীর চাপে বিষপান করে আত্নহত্যা করে।
জানা যায়, উপজেলার বড় গোপাল পুর গ্রামের তাইবুর রহমান খন্দকারের ছেলে কামরুজ্জামান রাজু পাচ ভাই সহ বড় সংসারের চাপ সামলাতে বেশিদুর পড়ালেখা করতে পারে নাই।
মৃত রাজু লেখা পড়া বাদ দিয়ে সংসারে সহযোগিতা করার জন্য কর্মের দিকে ধার্বিত হয় । প্রথমে রাস্তার মাটি কাটার সুপার ভাইজার হিসাবে ৪০টাকার কর্মময় জিবন দিয়ে যাএা শুরু করেন।
তারপর ভাইদের লেখাপড়া সহ সাংসারিক সহযোগিতা করার জন্য বিভিন্ন দোকান হতে ফ্লাট দামে ঔষধ ক্রয় করে বাইসাইকেলে অথবা হেটে মফস্বল
দোকানেগুলোতে বিক্রয় করে অাস্তে অাস্তে কিছু পুজি জোগার করে ঢোলভাংগা সাদুল্যাপুর রোড়ে একটি ঔষধের দোকান নিজ নামে প্রতিষ্ঠা করেন। এবং সে সময় নিজের নামেই ঔষধ বিক্রির ড্রাগ লাইসেন্স করেন। এর পর রাজু হয়ে উঠে একজন প্রতিষ্ঠিত ঔষধ ব্যবসায়ি।
প্রতিদিন তার দোকানে লক্ষাধিক টাকার কেনা বেচা হয়। সে সময়ে তার উপর কু -দৃষ্টি পরে এলাকার মাদক ব্যবসায়ি ও দাদন ব্যবসায়িদের ।
ঐসব মাদক ও দাদন ব্যবসায়িদের সংম্পর্শে অাস্তে অাস্তে রাজু হয়ে যায় মাদকাসক্ত। শুরু করে জুয়া খেলা। জুয়া খেলতে নিয়ে গিয়ে মৃত রাজুকে টাকা হাওলাত দেয়। জুয়া খেলায় টাকা হারলে পুনরায় আবার টাকা দেয় জুয়াড়িরা। পাশাপাশি চলে মাদকসেবন। এভাবে অাস্তে অাস্তে যখন দাদনের টাকা বেড়ে যায় তখন প্রায়শই দাদন ব্যবসায়িদের সাথে তর্ক বিতর্কের সৃষ্টি হয় ।
এমন অবস্থায় মৃত রাজুু দোকানে না বসে তার ছোট ভাই রায়হানকে বসায় এবং পারিবারিক ভাবে দাদন ব্যসায়িদের প্রায় সাত লক্ষ টাকা পরিশোধ করে দেয়।
পরবরতীতে পরিবারের লোকজন তাকে আর বিশ্বাস পায় না। মৃত রাজু দোকানে বসতে চাইলে তাকে অার দোকানেও বসতে দেওয়া হয়না। ফলে হারাতে হয় তার তিল তিল করে গড়ে তোলা ' মা' মেডিকেল স্টোরের স্বত্তাাধিকারি ।
সেই থেকেই পরিবারের মধ্যে মনোমালিন্য চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার অাগের দিন ২১ তারিখে অাবারো কোন এক দাদন ব্যবসায়ির নিকট ৫০ হাজার টাকা পরিবারের কাছে দাবি করে।
তার দাবীকৃত টাকা অাদায়ে ব্যর্থ হয়ে গত ২২ তারিখ শুক্রবার অভিমান করে সকাল ১০টায় সকলের অজান্তে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে বিষ পান করলে তাকে তৎক্ষনিক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় ।
২৪ঘন্টা ডাক্তারের নিবির পযাবেক্ষনে থাকার পর শনিবার সকাল ৯টায় কর্তব্যরত ডাঃ তাকে মৃত বলে ঘোষনা করেন। এ পারে কোতয়ালি থানায় একটি ইউ ডি মামলা হয়েছে।


কোন মন্তব্য নেই
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷