দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটে আগত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সারাদেশে আজ ৭টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
খুলনা পাসপোর্ট অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্য এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্তৃক গ্রাহক হয়রানির অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক। সরেজমিন অভিযানে দুদক টিম পাসপোর্ট অফিস চত্বরে ২জন দালালকে অবৈধ অর্থ গ্রহণরত অবস্থায় পায়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের সহায়তায় তাঁদের অর্থদণ্ড এবং কারাদন্ড প্রদান করা হয়। উক্ত দালালদ্বয় বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের দুই আনসার সদস্য এবং একজন উচ্চমান সহকারীর সাথে যোগসাজশপূর্বক পাসপোর্ট প্রতি ৫৫০০ টাকা নিয়ে পাসপোর্ট করিয়ে নেয়ার অপরাধ প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন। পাসপোর্ট অফিসের এক নৈশপ্রহরীর কাছে ৬৩টি ডেলিভারি স্লিপ পাওয়া যায়। পাসপোর্ট প্রস্তুত হলেও টাকার বিনিময়ে ডেলিভারি দেয়ার উদ্দেশ্যে স্লিপগুলো রাখা হয়েছে মর্মে তিনি স্বীকার করেন। দুদক টিম কয়েকজন সেবাগ্রহীতাকে ফোন করলে তারা জানান যে, প্রতিটি স্লিপে তাঁদের নিকট হতে ৩৪৫০ টাকার পরিবর্তে ৫৫০০ টাকা করে গ্রহণ করা হয়েছে। টিম পাসপোর্ট অফিসের উক্ত ৪ জন কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে। সার্বিক বিবেচনায় বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস, খুলনায় চরম অব্যবস্থাপনা দুদক টিমের নিকট প্রতীয়মান হওয়ায় এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত চেয়ে কমিশনে বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে দুদক টিম।

জমির পর্চা উত্তোলনে সেবাগ্রহীতাদের নিকট হতে জোরপূর্বক অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন, নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সুবেল আহমেদের নেতৃত্বে জোনাল রেকর্ডরুম, নোয়াখালী সদরে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান পরিচালনাকালে জানা যায় যে, সরকারি কোষাগারে টাকা জমা না দিয়ে স্লিপের মাধ্যমে নোয়াখালীর রেকর্ড কিপার অধীনস্থ কর্মচারীর সহায়তায় সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। অভিযানকালে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পাঁচজন দালালকে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

👉শিক্ষা বোর্ডে আগত সেবাপ্রার্থীদের নিকট হতে সেবা প্রদানের নামে উৎকোচ দাবি এবং দুর্ব্যবহার করার অভিযোগে, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগের নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে, ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট কালোবাজারিতে সহায়তা করার অভিযোগে, বিনা টিকিটে ভ্রমনকৃত যাত্রীদের জরিমানার টাকা রশিদ ছাড়াই গ্রহণ করে আত্মসাৎ করা অভিযোগে এবং বিমানবন্দর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তারের বিরুদ্ধে ডিউটির সময়ে অনুপস্থিত থেকে রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান না করার অভিযোগে যথাক্রমে রাজশাহী জেলা কার্যালয়, পাবনা জেলা কার্যালয় এবং প্রধান কার্যালয় হতে ৫টি পৃথক অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷