কোচাশহর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৩২ লাখ টাকার হিসাবের গড়মিল॥ আত্মসাতের অভিযোগ
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতের আয়ের ৩২ লাখ টাকার হিসাবে গড়মিলের মাধ্যমে সিংহ ভাগ টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক ও নবগঠিত এ্যাডহক কমিটির প্রধানের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিষয়টি ফাঁস হওয়ায় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক স্টাফ ও ছ্ত্রা/ছাত্রীদের অভিভাবকসহ স্থানীয়দের নিয়ে বিদ্যালয়ের হলরুমে গত ১৫ জুন এক জরুরী বৈঠক হয়েছে বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে। নবগঠিত এ্যাডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য মোকলেছুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, গত ৩০ এপ্রিল কোচারশহর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বিদ্যালয় পরিচালনা করার জন্য একটি এ্যাডহক কমিটি গঠন করেছেন। ওই কমিটির একটি অভিষেক অনুষ্ঠান ছিল গত ৬ মে। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের নোটিশে আর কোন আলোচ্য সূচি ছিল না। প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ও নবগঠিত এ্যাডহক কমিটির প্রধান চঞ্চল মিয়া বিবিধ আলোচ্য সূচি কেটে দিয়ে ওই নোটিশে বিগত ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ বছরের আয় ব্যায় হিসাব যোগসাজসের মাধ্যমে রেজুলেশন করে তা অনুমোদন করেন নবগঠিত কমিটির প্রধান চঞ্চল মিয়া।
এ নিয়ে বিগত বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জহুরুল ইসলামসহ কয়েক জন অভিভাবক জানান, প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ও বর্তমান নবগঠিত কমিটির প্রধান চঞ্চল মিয়া যোগসাজস করে বিদ্যালয়ের আয়কৃত ৩২ লাখ টাকার সিংহ ভাগ বিবিধ খরচ দেখিয়ে আত্মসাত করেছে বলে অভিযোগের তীর ছুঁরেছেন তাদের দিকে।এ নিয়ে দফায় দফায় নিজেদের মধ্যে তারা রফাদফা করার জন্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিভাবক সদস্যরা জানান।
এ বিষয়ে কোচাশহর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি এসব এড়িয়ে যান।বিদ্যালয় পরিচালনা নবগঠিত কমিটির প্রধান চঞ্চল মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, নবগঠিত কমিটির ওই অভিষেক অনুষ্ঠানে আয় ব্যায় বিষয়ে কোন আলোচ্য সূচি ছিল না। প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বিবিধ আলোচনা কেটে দিয়ে বিগত বছরগুলোর আয় ব্যায় হিসাব রেজুলেশন করে আমার কাছ থেকে অনুমোদন নিয়ে সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরে অবহিত করেছেন তবে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাতের বিষয় সত্য নয়। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মামুনুর রশিদ জানান, কোচাশহর বিদ্যালয়ে এ ধরনের একটি সমস্যা নিয়ে বৈঠক বসে হট্রগোল হয়েছে বলে শুনেছি, কেউ এখনও অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিভাবক ও এলাকাবাসী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সুষ্ঠ ভাবে পরিচালনার স্বার্থে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


কোন মন্তব্য নেই
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷