গাইবান্ধায় যত্ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম
"যদি থাকে সুস্থ্য শিশু সুস্থ্য মা, জাতি বোঝা হবে না " উন্নত রাষ্ট্রের সারিতে যেতে হলে তৃণমুলেই মেধাবিকাশের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সহ সকল প্রকার সহায়তা প্রদান করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সুস্থ্য সবল চারা হতে বড় গাছ পাওয়া যায়। এজন্য রাষ্ট্রের মানব উন্নয়ন মা ও শিশু উভয়ের বিশেষ সুবিধা প্রদানের লক্ষে এনজিও গুলো প্রকল্পের কাজ করছে। জেলার সবকয়টি ইউনিয়নের এ প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের আবেদন জমাদানে ব্যাপক ভোগান্তি ও হয়রানি করাসহ অর্থ আদায় করছে ইউপি সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যানগণ। প্রকল্পের অনিয়ম ও দূর্নীতির চিত্র এখন গোপনেই নিয়ম। জেলার প্রকল্পভুক্ত সবকয়টি ইউনিয়নে অনিয়মের হিড়িক পড়েছে।
শিশুর টিকার কার্ড নিতে ৩ হতে কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোতে হাজার টাকা, জন্ম নিবন্ধন নিতে ১০০ হতে ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে ফরম থাকছে চেয়ারম্যানদের হাতে চেয়ারম্যানগণ স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, উপজেলায় পর্যায়ে থেকে তৃণমুল পর্যায়ের নেতাদেরসহ সাংবাদিকদের কেও দিচ্ছেন ভাগ বাটোয়ার হিস্যা। বাকি ফরম ১০০০ হাজার হতে ৫০০০ টাকা প্রদানের বিষয়টি গোপন নয়।
টাকা থাকলে ফরম মিলছে টাকা নাই ফরম শেষ। যে কয়টি নাম তার অনেক মানুষ পরের বার অন্য কিছু দিবো এই বলে মেম্বার চেয়ারম্যানগণ সাধারণ মানুষদের সান্তনা দিচ্ছেন। আর কয়টি নিজ এলাকায় দিয়ে বাকি গুলো টাকার বিনিময়ে বিক্রি করছেন।
কিছুদিন আগে হতেই শিশু ভাতা কার্ডের জন্য অর্থনৈতিক সুবিধা গ্রহন করার অভিযোগ উঠেছে অবশেষে প্রকল্পের কাজ চলছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ফরমের চেয়ে আবেদনকারী বেশী। প্রকল্প এলাকা পলাশবাড়ী উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নের সবকয়টিতে ফরম বিনা পয়সা ফরম পাওয়ার সংখ্যা কম। টাকা দিয়ে ফরম পাওয়ার সংখ্যাই বেশী।
প্রমন্ম ও মা উভয়কে মা-শিশু যত্ন প্রকল্পের অনিয়ম-দূর্নীতি বন্ধ ঘুষের টাকা ফেরত ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে গাইবান্ধায় জেলা জুড়ে ইউনিয়নে ইউনিয়নে মা-শিশুর যত্ন প্রকল্পের নামে সীমাহীন অনিয়ম-দূর্নীতি বন্ধ, ঘুষের টাকা ফেরত ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্র গাইবান্ধা জেলা শাখা এ মানববন্ধন কর্মসূচীর আয়োজন করে। মানববন্ধনে বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের সকল নেতাকর্মী ও সাধারন মানুষ অংশ নেয়। মানববন্ধন শেষে নারী মুক্তি কেন্দ্রের সহ আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসকের নিকট একাধিক স্মারকলিপি প্রদান করেন।
মা ও শিশুর যত্ন প্রকল্প একটি সহায়ক প্রকল্প। এই প্রকল্পের নামে ইউনিয়নে ইউনিয়নে ব্যাপক দূর্নীতি,অনিয়ম ও লুটপাট হচ্ছে এতে করে সর্বশান্ত হচ্ছে সাধারন মানুষ এবং বঞ্চিত হচ্ছে প্রকৃত উপকারভুগীরা। তাই অচিরেই সুষ্ঠু তদন্ত করে এই দূর্নীতির সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির ও প্রকল্প সচল রাখার দাবি করাটা অযৌতিক নয়। জেলা জুড়ে এমন কর্মকান্ডে গুলো দমন করতে স্ব স্ব ক্ষেত্র হতে এগিয়ে আসতে হবে।


কোন মন্তব্য নেই
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷