পানের চাষ পদ্ধতি
পানের ভেষজগুণ
পানের রস হজমে সহায়তা করে, রুচি বৃদ্ধি করে এবং মুখের দুর্গন্ধনাশক হিসাবে কাজ করে।
পান চাষে মাটি নির্বাচন
পান চাষের জন্য দরকার উঁচু, বন্যামুক্ত, বেলে দোআঁশ বা এটেল দোআঁশযুক্ত জমি। ছায়াযুক্ত নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া পান চাষের জন্য ভাল।
পানের জাত
আমাদের দেশে বেশ কয়েক জাতের পান রয়েছে। তার মধ্যে বাংলা, মিঠা, সাচি, কর্পূরী, গ্যাচ, নাতিয়াবাসুত, উজানী, মাঘি, দেশী, বরিশাল ও ঝালি প্রভৃতি জাতের পান অন্যতম। এসব জাতের পান বরজে চাষ করা হয়।
পান চাষে জমি তৈরি
পান চাষের জমি তৈরি করতে যা যা করতে হবে। যেমন-
১. পানের জমি ভালোভাবে চাষ দিতে হবে।
২. আবাদি জমিতে হালকা চাষ দিতে হবে এবং অনাবাদি জমিতে গভীরভাবে চাষ দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করতে হবে।
৩. গাছের গুঁড়ি, গুল্ম জাতীয় গাছের শিকড় ভালোভাবে পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।
৪. জমি ভালোভাবে চাষ দিয়ে আগাছা বাছাই করে, মই দিয়ে সমান করে নিতে হবে।
৫. বৃষ্টির পানি জমিতে যাতে দাঁড়াতে না পারে সে জন্য জমিতে নালা তৈরি করতে হবে।
৬. জমি চাষ করে কিছুদিন ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে।
৭. মাঝে মাঝে লাঙ্গল দিয়ে মাটি ওলট-পালট করে দিতে হবে।
৮. চারাগাছের জন্য পর্যাপ্ত ছায়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
৯. বাতাস বেশি হলে চারদিকে বাতাস প্রতিরোধী গাছ লাগাতে হবে।
১০.সেচ ও পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করতে হবে।
পানের বরোজ তৈরি
পান গাছকে ছায়া দেয়া ও প্রবল বাতাসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য উন্নতমানের বরোজ তৈরি করা একান্ত জরুরি। বরোজ তৈরিতে পাকা বাঁশ/খুঁটি, বাঁশের চটা, ছন বা কাশ জাতীয় ঘাস, খড় এসবের প্রয়োজন হয়। বরোজ তৈরির জন্য প্রথমে ২.৫-৩.০ মিটার লম্বা পাকা বাঁশের খুঁটি তৈরি করে গোড়ায় আলকাতরার প্রলেপ দিতে হবে। এতে বরোজে উঁইয়ের আক্রমণ হবে না। খুঁটি চারিদিকে পোঁতার পর তাতে বাঁশের চটা, ছন/খড় দিয়ে ছাউনি ও শুকনা কলাপাতা, খেজুর পাতা, সুপারি পাতা এসব দিয়ে বেষ্টনী বা বেড়া দিতে হবে। ভেতরে চারা রোপণের পর প্রয়োজনমত কাঠি দিয়ে বেঁধে দিতে হবে।
পানের চারা প্রস্তুতকরন
পান গাছের কান্ডকে ছোট ছোট টুকরায় কেটে চারা তৈরি করতে হবে। প্রতিটি চারা লম্বায় ২৫-৩০ সেঃমিঃ এবং তাতে ৩-৫টি গাঁইট থাকা আবশ্যক। সাধারণত দুটি গাইট মাটির নিচে এবং একটি বা অধিক গাঁইট মাটির উপরে রাখতে হবে। চারা প্রস্তুতের জন্য কমপক্ষে দুই বছর বয়সের পুরাতন এবং সুস্থ ও নীরোগ গাছ নির্বাচন করতে হবে।
পানের চারা রোপণ
বরোজের ভেতরে চারিদিকে ৬০ সে.মি চওড়া রাস্তা রাখতে হবে। প্রতিটি বেড ১২০ সে.মি চওড়া করে তৈরি করে নিতে হবে। প্রতিটি বেডে দুই লাইনে চারা রোপণ করতে হবে। একটি লাইন থেকে আরেকটি লাইনের দূরত্ব ৩০ সে.মি রাখা ভাল। আবার প্রতি দুই বেডের মাঝখানে ৩০ সে.মি নালা রাখা প্রয়োজন।
পানের চারা রোপণের সময়
সাধারণত বর্ষাকাল বা আষাঢ় মাস চারা লাগানোর উপযুক্ত সময়। কাটিং সামান্য কাৎ করে (৪৫ ডিগ্রী) অর্ধেক অংশ মাটির ভেতর এবং বাকি অংশ চোখ বা মুকুল মাটির ওপর রাখা হয়। দ্বিসারি পদ্ধতিতে ৫-১৫ সে.মি লম্বা কাটিং লাগে শতক প্রতি ৪০০-৫০০ টি।
পানের পরিচর্যা
কাটিং থেকে অনেক সময় অনেকগুলো চারা জন্মে, সেক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় চারা তুলে পাতলা করে দিতে হবে। লতা বাড়তে বাড়তে বরোজের ছাউনি বা ছাদে ঠেকে গেলে নীচের দিকের পাতা তুলে লতাটি নামিয়ে দিতে হবে। এতে পান পাতার আকার স্বাভাবিক থাকে এবং ফলনও বেশি পাওয়া যায়। বছরে ৩/৪ বার গোড়ার মাটি তুলে দেয়া দরকার।
পানের সার প্রয়োগ
জমিতে জৈব সারের পাশাপশি সুষম মাত্রায় পরিমাণ মতো রাসায়নিক সার প্রয়োগ করলে ভাল ফলন পাওয়া যায়।
পান সংগ্রহ
পানের লতা লাগানোর ৬-৮ মাসের মধ্যে পান পাতা তোলার উপযুক্ত হয়। রবি মৌসুমে দেরিতে এবং খরিফ মৌসুমে দ্রুত পান সংগ্রহ করা যায়। বর্ষাকালে প্রতিটি লতা থেকে সপ্তাহে দুইবার পাকা পাতা সংগ্রহ করা যায়। পাতা হলুদ হওয়ার আগে না তুললে বাজারদর কমে যাবে। বোঁটাসহ পান লতা থেকে হাত দিয়ে ছিঁড়ে সংগ্রহ করতে হবে।
পানের রোগবালাই ও প্রতিকার
গোড়া পঁচা রোগ
এটি এক ধরনের ছত্রাকের আক্রমণের কারনে হয়ে থাকে। বোঁর্দো মিশ্রণ দিয়ে মাটি শোধন করলে রোগের আক্রমণ কম হয়। আক্রমণ বেশি হলে ডায়থেন এম-৪৫ বা রিডোমিল এম জেড-৭২ ছত্রাক নাশক স্প্রে করতে হয়।
পাতায় দাগ পড়া রোগ
এটি এক ধরনের ছত্রাকের আক্রমণের কারনে হয়ে থাকে। আক্রান্ত পাতা পুড়িয়ে ফেলতে হবে। আক্রমণ বেশি হলে কুপ্রাভিট বা বাভিষ্টিন জাতীয় ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে।
পাতা পঁচা রোগ
এটি এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণের কারনে হয়। বরোজ সব সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাকা দরকার। আক্রমণ শুরু হওযা মাত্রই লতা ও মাটিতে বোঁর্দো মিশ্রণ স্পে করতে হবে।
Src: pepeelika

কোন মন্তব্য নেই
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷