দুইধরনের লোকেদের উপর আমার খানিক ঈর্ষা ঈর্ষা অনুভূতি আছে। মিষ্টি ঈর্ষা যদিও!
যারা গলা খুলে গাইতে পারেন আর যারা হাত খুলে লিখতে পারেন। কেন এমন ঈর্ষা সেটা বলি। তার আগে একটা ফিল্মের কথা বলি। গতরাতে দেখেছি।
একটা ম্যাড়মেড়ে শুরুর ছবি। প্রথম অনেকক্ষণ ধরেই মনে হতে পারে কেন এই ছবিটা দেখছি আমি!? শুরুর দিকের একমাত্র আকর্ষণ ফ্যাশন রুচিহীন একটা অগোছালো মেয়ে। সুন্দরী। আর ছবির চরিত্রদের নর্দার্ন ইংলিশ একসেন্ট। শারিরীকভাবে একজন প্রায় অচল যুবকের গল্প... গল্পে একজন অসম্ভব চটপটে মেয়ের সব কিছু ফেলে সেই যুবকের প্রেমে পড়ে যাওয়ার গল্প।
Me before you ছবিটার নাম। অভিনেতা, অভিনেত্রি, কে বানিয়েছেন এসবে গেলাম না। শুধু বলে রাখি এটা একটা উপন্যাস থেকে বানানো।
খুব ধির লয়ে আগায় ছবি। প্রায় শেষ দিকে গিয়েই বুঝা যায় কেন এত সময় ধরে ছবিটা দেখছিলাম। আর যখন বুঝতে পারা শুরু হয় তখন থেকে চোখের পানি মুছতে থাকতে হয়। অন্তত পনের মিনিট আমি এক নাগাড়ে কেঁদেছি। কেঁদেছি এই ভেবে প্রেম ব্যাপারটা আসলেই স্বর্গীয়।
গত পরশু একজন লেখকের সাথে কথা বলছিলাম... উনি খানিক অভিযোগ করেই বলছিলেন তোমরা ছেলেরা আসলে একজন মেয়ের প্রেমে পড়না। পড় তার শরীরের প্রেমে। কথাটা কেমন যেন শক্ত! মেনে না নিয়ে তেমন উপায় থাকে না। আমিও ছেলে। সবার আগে মেয়েদের শরীর দেখি। কেন এমন হয় জানি না। তবে হয়। সম্ভবত ছেলেরা সাধারণভাবে এমন হয়। যারা এর বাইরে উনারা পুরুষ নয়!!
এই ছবিতেও তার প্রতিফলন আছে। ছেলেটার অনেকগুলো আফসোস এর একটা মেয়েটাকে শারীরিকভাবে না পাওয়া। যদিও ছেলেটার মাথা বাদের পুরো শরীর অবশ হওয়া দেখেও মেয়েটা তার প্রেমে পড়ে। রীতিমত হাবুডুবু প্রেম। সাত বছরের বয়ফ্রেন্ডকে ভুলে যেতে পারার মত প্রেম। মেয়েটা ছেলেটার মন দেখেছিল... অদ্ভুত সুন্দর এক মন। ছেলেটাও মেয়েটা উচ্ছলতা দেখেই তার প্রতি মুগ্ধ হয় ... এরপর এক পর্যায়ে বলে ... you are pretty much the only thing that makes me wanna get up in the morning ... এখানে wanna get up বলে সম্ভবত এ কারণে যে ছেলেটা আসলে উঠতে পারে না। সে চলতশক্তিহীন।
মিস্টার উইল ট্রেইনর... ছেলেটা। ঠিক করে রাখে সে আত্মহত্যা করবে। বাবা মাকে ছয় মাস সময় বেঁধে দেয়। আর মিস লুইজা ক্লার্ক ... মেয়েটা চায় ছেলেটাকে বাঁচাতে। সে কথা দেয় সে আজীবন ট্রেইনার এর সাথে থাকবে। যেভাবে আছে তেমন করে। যেমন এখন ভালবাসে তেমন করেই ভালবাসবে।
যারা Fifty shades of Grey দেখেছেন বা Fifty shades darker দেখেছেন এবং সেই সাথে এই ছবিও দেখবেন তারা দুই ধরণের প্রেম দেখতে পারবেন। খানিক চিন্তা করলে বুঝতেও পারবেন। একেবারে শরীরকে ঘিরে শরীরি প্রেম আর পুরোপুরি শরীর বিচ্ছিন্ন মনের প্রেম... এক ছবিতে শরীরের উপর দিয়ে ঝড় তুলে আনন্দ নিতে চায় পাত্রপাত্রি... আরেক ছবিতে শুধু এক চুমুতেই বেঁচে থাকতে দুইজন ... নাহ, বলা ভাল একজন! এই ছবিতে একটা চুমুর দৃশ্য আছে। স্বর্গীয়। এভাবে আলাদা করে বলার কারণটা ছবি দেখলেই বুঝতে পারবেন।
ছবির একেবারে শেষে একটা চিঠি আছে... তার কিছু কথা মনে গেঁথে রাখার মত ... Live bolodly. Push yurself. Don't settle. Just live well.... আমি খুব অল্প বোঝা একজন মানুষ কিন্ত আমার মনে হয় এই অল্প কয় কথার মধ্যে জীবনের মুল মন্ত্র আছে!!
এবার শুরুর কথায় আসি ... এই ছবি দেখে স্বভাবত আমার মন খারাপ হয়েছে। মন খারাপ হলে গলা উঁচিয়ে গাইতে ইচ্ছে করে... পারিনি। ফলে আরো মন খারাপ হয়েছে। মন খারাপ হলে মন খারাপের কাব্য লিখতে ইচ্ছে করে ... পারিনি। ফলে আরো মন খারাপ হয়েছে। গতকালই একজনের চোখ দেখে কাব্য লিখতে ইচ্ছে হয়েছিল... সেটাও পারিনি। সেই চোখ এখন আমাকে জ্বালিয়ে বেড়াচ্ছে।
আমরা অনেকেই প্যারালাইজড। কেউ শরীরে, কেউ মনে।
পেন্সিলের কেউ উপরের কোন ছবি দেখলে রিভিউ দিয়েন। ভাল লাগবে পড়তে।
---
ছবি গুগল মামার কাছ থেকে মেরে দেয়া। মামাদের সম্পত্তি মেরে দেয়া যায়।
যারা মুভি রিভিউ লিখতে চান তারা কিছুদিন The Telegraph, Daily Mail or Times এমন পত্রিকগুলোতে প্রকাশিত মুভি রিভিউ পড়তে পারেন। এতে উপকার হয়। লেখার ছন্দটা বুঝা যায়। এই মুভির রিভিউ আমি একটা পত্রিকায় পড়েছি। কমেন্টে লিংক দিলাম। আর আমার লেখার চেষ্টার একটা সিক্রেট ওপেন করে দিলাম। আপনার অন্য কাউকে জানিয়েন না, প্লিজ!


কোন মন্তব্য নেই
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷