ফরিদপুরের এসপি সুভাস চন্দ্র সাহার একাউন্টে অবৈধভাবে উপার্জিত ৮ কোটি টাকা পাওয়া নিয়ে বেশ হৈচৈ
ফরিদপুরের এসপি সুভাস চন্দ্র সাহার একাউন্টে অবৈধভাবে উপার্জিত ৮ কোটি টাকা পাওয়া নিয়ে বেশ হৈচৈ হচ্ছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই এসপিকেই কিছুদিন আগে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পুলিশ পদক পিপিএম (প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক) এ ভূষিত করা হয়েছিলো। উনাকে পদকটা পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং।
এসপি মহাশয়ের নামটা দেখেই আমি একটু কনফিউজড হয়ে গিয়েছিলাম। 'সাহা' বাবুদের তো এই সময়ে 'কট' খাওয়ার কথা না! কোথাও ভজঘট হয়ে গিয়েছিলো বোধহয়, অথবা সাহা বাবুর পাপের পাত্রটা কানায় কানায় ভরে গিয়েছিলো। কট না খেয়ে উপায় ছিলোনা।
যেমনটা আরেক পদক প্রাপ্ত এসপি বাবুল আখতারের ক্ষেত্রে ঘটেছিলো। ইনি 'কট' খেয়েছিলেন স্ত্রী হত্যায় অভিযুক্ত হওয়ার কারণে। অবশ্য চাকুরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে তিনি পার পেয়ে গিয়েছিলেন।
মাত্রই প্রথম আলোর একটা নিউজে দেখলাম, কক্সবাজারের টেকনাফে এক ব্যক্তিকে অপহরণের অভিযোগে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাতজনকে নগদ ১৭ লাখ টাকাসহ আটক করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল।
অপহৃত ব্যবসায়ীর নাম আবদুল গফুর। বেচারা কম্বলের ব্যবসা করতেন।
মুক্তিপণ হিসেবে পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করে ডিবি। কিন্তু দর-কষাকষির পর ওই ব্যবসায়ীর পরিবার ১৭ লাখ টাকা দিতে রাজি হয়।
শেষ রক্ষা হয়নাই অবশ্য। মুক্তিপনের টাকা বুঝে নিয়ে ডিবি সদস্যরা যখন কেটে পড়ার তাল করছিলো তখুনি সেনাবাহিনীর হাতে 'কট' খেয়ে যান। আগেও সম্ভবত তারা এইরকম অনেকগুলো দাঁ মেরেছিলেন, এইবার আর সফল হননাই। এদেরও পাপের ঘটি'টা পূর্ণ হয়ে গিয়েছিলো সম্ভবত।
তারেক সাঈদের বেলাতেও এরকমটা ঘটেছিলো। দেশব্যাপি বিএনপি-জামায়াতের বহু নেতা-কর্মীকে তিনি ভোজবাজির মত গায়েব করে দিয়েছিলেন, উনার কিছুই হয়নাই। ধরা খেলেন নারায়নগঞ্জের সেভেন মার্ডারে এসে। পাপের বোঝা পূর্ণ হয়ে গেলে যা হয়, কট খেয়ে যাওয়া, তারেক সাঈদও ধরা খেয়ে গেলেন।
এই মাহেন্দ্রক্ষণে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গী হামলায় নিহত ওসি সালাহ উদ্দিনের কথাও মনে পড়ছে। বহু বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীর রক্তে তার হাত রাঙ্গানো ছিলো। গুলশান এটাকের দিন বনানী থেকে উইড়া আইসা হলি আর্টিজান বেকারির সামনে খাড়ায়া হুংকার ছাড়ছিলেন, ওই তোরা কারা, বাইর হইয়া আয়! আমি ওসি সালাহ উদ্দিন!
ওসি সালাহ উদ্দিনের আহত শরীরটা যখন হলি আর্টিজানের সামনে পড়েছিলো তখন তাকে রেসকিউ করার মত আশেপাশে তার কোন সহকর্মী ছিলোনা। ল্যাঙ্গুট উঁচায়া দৌড় লাগাইছিলেন সবাই। তড়পে তড়পে মরেছিলেন বেচারা।


কোন মন্তব্য নেই
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷