https://www.effectivegatecpm.com/rn8qbtaqk?key=a6bb032d522890bffe519fa4928f6d14 স্বাস্থ্যের বিদেশমুখি মিছিল-জিয়াউদ্দীন আহমেদ - Gaibandha Online Portal

Breaking News

স্বাস্থ্যের বিদেশমুখি মিছিল-জিয়াউদ্দীন আহমেদ

আজ ২৯ অক্টোবর,২০১৭ দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত আমার কলাম ‘স্বাস্থ্যের বিদেশমুখিন মিছিল’ এর তৃতীয় পর্বটি বন্ধুদের পড়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
স্বাস্থ্যের বিদেশ মুখি মিছিল
জিয়াউদ্দীন আহমেদ
তৃতীয় পর্ব

স্বাস্থ্যের বিদেশমুখিন মিছিলের দ্বিতীয় পর্বের ওপর আমার ফেসবুকের বন্ধুরা অসংখ্য মতামত দিয়েছে। আমার একজন প্রাক্তন সহকর্মী কিডনি ও হার্টের রোগী; তার প্রথম হার্ট এটাকে হাসপাতালে নেয়ার পর রোগীর অবস্থা জটিল কি-না তা তার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া মেয়ে চিকিৎসকের কাছে জানতে চাইলে ডাক্তার সাহেব ধমক দিয়ে জানালেন, ‘এটা তোমার জানার দরকার নেই।’ আমার সহকর্মী আরও লিখেছেন, বাংলাদেশি ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনে দেয়া দুটি টেবলেট তার কিডনির ক্রিয়েটেনিন বৃদ্ধি করছে মর্মে ভারতের চিকিৎসক তাকে জানিয়েছেন। দেশীয় কারডিওলজিস্টের সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও ভারতের চিকিৎসক তার এনজিওগ্রাম করতে সম্মত হননি। ভারতীয় চিকিৎসক জানালেন, এনজিওগ্রাম করলে কিডনি ড্যামেজ হয়ে যেতে পারে। আমার এক স্যার লিখেছেন, তুমি যা লিখছো তার সব চিকিৎসকেরা জানেন, কিন্তু জনগণের বিরূপ, বিতৃষ্ণা নিয়ে তাদের কোন মাথাব্যথা নেই। দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা করেন এমন একজন সরকারি কর্মকর্তা অনলাইনে পড়ালেখা করে ডাক্তারি সনদ সংগ্রহের ব্যাপারে বিরূপ মনোভাব পোষণ করে লিখেছেন, ‘আমার ধারণা যোগ্যতার বিচারেও আমাদের ডাক্তাররা পিছিয়ে আছেন’। আমার এক মুক্তিযোদ্ধা সতীর্থ লিখেছে, ‘আল্লাহ্?র কাছে কত কাঁদি বিভিন্ন সেক্টরে অসাধু লোকগুলোর চোখের জ্যোতি, শ্রবনশক্তি ও অনুধাবন ক্ষমতা যেন বাড়িয়ে হেদায়েত নসীব করেন’। ফেসবুকের আরেক বন্ধু লিখেছেন যে, ক্যানসারের রোগী তার বাবা মারা যাওয়ার ৬ দিন আগে সংকটাপন্ন অবস্থায় বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভর্তি করানো সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেয়; এ অবস্থায় বর্তমান তথ্যমন্ত্রী ফোন করলে ভর্তি করানো সম্ভব হয়।
বাবা মারা গেলে ডেথ সার্টিফিকেট নিতে তাকে ৫০০ টাকা দিতে হয়েছে। একজন সাবেক ডেপুটি গভর্নর লিখেছেন, ‘ভুল চিকিৎসা বা অবহেলার শাস্তি হয় না বলেই কারো অভিযোগ গ্রাহ্য হচ্ছে না’। আরেকজন ডাক্তারিকে একটা অর্থকরী পেশা হিসেবে বর্ণনা করে লিখেছেন, ‘আমরা সাধারণ জনগন তো অর্থকরী এ পেশার আবাদি জমিমাত্র’। তার প্রসূতি স্ত্রীর রক্তচাপ কমানোর ওষুধ প্রেসক্রাইব করে চিকিৎসকের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ক্লিনিকে সিজার করার অভিসন্ধী অন্য আরেকজন চিকিৎসকের পরামর্শে বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে মর্মে একজন জানিয়েছেন। চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়ার ক্ষেত্রে সরকারের ভর্তুকি সবচেয়ে বেশি বলে চিকিৎসকদের উপর জনগণের চাহিদাও স্বেশী আরেকজন ফেসবুক বন্ধু মন্তব্য করেছেন।

প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে সমাজসেবা অধিদফতরের অধীনে গরিব রোগীর চিকিৎসায় ওষুধপত্র দেয়ার বিধান এখনও চালু আছে কি-না আমার জানা নেই। তবে সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিনা পয়সায় ওষুধ ও খাবার দেয়ার নিমিত্তে প্রতি বছর একটা বরাদ্দ নির্দিষ্ট করা আছে। কিন্তু বরাদ্দ প্রয়োজনানুযায়ী থাকে না বলে খাবারের মান খুবই নিম্নমানের হয়ে থাকে; ফলে অপেক্ষাকৃত সচ্ছল রোগীরা সচরাচর হাসপাতালের খাবার খায় না। গরিব রোগীর জন্যও মাঝে মাঝে তার স্বজনেরা বাইর থেকে খাবার নিয়ে যায়। হাসপাতালের খাবারের হিসাব নিয়ে তাই অনিয়ম হওয়ার সুযোগ থেকে যায়। অন্যদিকে বিনামূল্যের ওষুধ রোগীর নামে ইস্যু দেখিয়ে বাইরে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ শুনে আসছি জ্ঞান হওয়ার পর থেকে। সামান্যতম জখমের চিকিৎসার জন্য গেলেও গজ, ব্যান্ডেজ, ইনজেকশন ইত্যাদি রোগীকে বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়। রোগীর অপারেশন চলাকালে অপারেশনের পণ্য ও স্যালাইন যে কতবার রোগীর আত্মীয়-স্বজনদের বাইরের ফার্মাসি থেকে কিনে আনতে বলা হয় তার ইয়ত্তা থাকে না। রোগীর সুস্থতা নিয়ে তার আত্মীয়-স্বজন এত বেশি চিন্তিত থাকে যে, কোন ধরনের ওষুধ কয়বার আনা হলো তার প্রতি ভ্রক্ষেপ করার সময় থাকে না।
সত্তরের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন ঢাকা প্রবাসী আমার গ্রাম-সম্পর্কীয় এক আত্মীয়ের বাসায় চৌকির নিচে অসংখ্য সেলাইন দেখে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। ঐ আত্মীয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় ছিল। প্রায় আটত্রিশ বছর পূর্বে দেখা সেলাইনের এই স্তূপ সম্পর্কে তখন আন্দাজ করতে না পারলেও এখন বুঝি ওইগুলো কোত্থেকে আনা হয়েছিল। অবশ্য রোগীর ওষুধ বিক্রির অভিযোগ শুধু সরকারি হাসপাতালে নয়, ছোট ছোট বেসরকারি ক্লিনিকেও হয়ে থাকে। এই ক্লিনিকগুলোর নিচে ওষুদের দোকান থাকে। একবার এক বেসরকারি ক্লিনিকে ওষুধ কিনে নার্সের হাতে দেয়ার পরপরই দেখলাম, আমার দেয়া ওষুধের অর্ধেক নিচের ফার্মাসিতে চলে গেছে। রোগীর মৃত্যুর পরও মৃত্যুর সংবাদ গোপন রেখে ওষুধ কেনানোর ঘটনা বহু শোনা যায়।
আমাদের দেশে অধিকাংশ হাসপাতাল, ক্লিনিকের অব্যবস্থাপনা ছাড়াও নোংরা পরিবেশের কারণে রোগী থেকে শুরু করে চিকিৎসা কর্মীরাও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেক সরকারি হাসপাতালে দুর্গন্ধের কারণে যাওয়া যায় না। বিভিন্ন পাত্রে রাখা রোগীর কফ, মলমূত্র তাৎক্ষণিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় না; বাথরুমের অবস্থা দুর্বিষহ, ফ্লাশ করার ব্যবস্থা নষ্ট, ছিটকিনি থাকে না। একজন টয়লেটে গেলে আরেকজন দরজা টেনে ধরে থাকে। পানি থাকে না, পানির কল রশি দিয়ে রোগীরা বেঁধে রাখে। রোগী যতদিন থাকে ততদিন আর বিছানা বদলানো হয় না।
১৯৪৬ সনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ চালু হয়। বর্তমান সরকারের আমলে উন্নীত ২৬০০ শয্যা বিশিষ্ট বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ এই সরকারি হাসপাতালের ওপর মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। প্রত্যাশা বেশি বলে প্রতিদিন গড়ে ৩৫০০ জন রোগী কেবিন, ওয়ার্ড ও বারান্দায় শয্যা খোঁজে। কিছুদিন পূর্বে গিয়ে দেখলাম, আগের তুলনায় এই হাসপাতাল অনেক বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, স্থানে স্থানে ব্লিচিং পাউডার ছিটানো রয়েছে। কিন্তু রোগীদের সঙ্গে আলাপ করে শুধু অসন্তুষ্টি লক্ষ্য করেছি।
সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে হাসপাতাল, ক্লিনিকগুলোতে প্রায়ই এমনসব অনাকাক্সিক্ষত, দায়িত্বজ্ঞানহীন ঘটনা ঘটে, যার জন্য আমাদের দেশের রোগী ও আত্মীয়-স্বজনদের আস্থা পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর নষ্ট হয়ে যায়। প্রায় পঁয়ত্রিশ বছর পূর্বে আমার গ্রামের এক নানা মর্মান্তিক অবহেলায় মারা যান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আমার নানা মাওলানা ছালেহ আহমেদ ছিলেন সংবাদপত্রের একজন হকার; বঙ্গবন্ধু তার নাম দিয়েছিলেন, ‘জেহাদি’। আমাদের এলাকায় তিনি জেহাদি নামে সমধিক পরিচিত। তিনি বঙ্গবন্ধুকে বলে পত্রিকা হকারদের জন্য বেশি কমিশন এনে দিয়েছিলেন। তিনি সাইকেলে করে পত্রিকা নিয়ে নির্ধারিত গ্রাহকদের বিলাতেন। অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে, সাইকেল চালানোর সময়ও তিনি ঘুমাতেন; কখনো দুর্ঘটনা হয়েছে বলে শুনিনি। বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ কর্মী, বঙ্গবন্ধু তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন বলে সরোওয়ার্দী উদ্যানের পাশে তিন নেতার মাজারের তত্বাবধায়ক করে দিয়েছিলেন। মেডিকেলের চিকিৎসক ও ছাত্রছাত্রীদের পত্রিকা দিতেন বলে তখনকার সব ডাক্তার তাকে চিনতেন। আমার এই নানা এক জটিল রোগে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হন; কিন্তু কয়েকদিন পর তাকে হাসপাতালের কলাপসিবল গেইটের বাইরে আউটডোরের একটি সিঁড়ির কয়েকতলা উপরে মরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। কিভাবে তিনি ওয়ার্ড থেকে দূরবর্তী সিঁড়িতে গেলেন, কখন মারা গেলেন তা ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ডবয়, দারোয়ান কেউ বলতে পারলো না। আশ্চর্যের বিষয় হলো, মরার পরদিন রোগীর আত্মীয়-স্বজনেরা হাসপাতালে রোগীর খোঁজ নিতে গিয়ে আবিষ্কার করলো যে, আগের রাত ১০টা থেকেই রোগী বিছানায় নেই।
জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান বা পঙ্গু হাসপাতালের অনিয়ম নিয়ে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় বহুবার বহু বিষয়ে নেতিবাচক খবর হয়েছে। কার কথা কে শোনে। এক আত্মীয় রোগীকে দেখতে এই হাসপাতালে একবার গিয়েছিলাম। এমন নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন হাসপাতাল দ্বিতীয়টি আছে বলে মনে হয় না। হাসপাতালটির চারিদিকে ময়লা, আবর্জনা, যত্রতত্র ধুলার আবরণে পরিত্যক্ত আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি। চারিদিকে ছড়িয়ে, ছিটিয়ে থাকা গজ, ব্যান্ডেজ ও খাবারের পরিত্যক্ত প্যাকেট। এক লেখায় দেখলাম, ২০১৩ সনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের একজন প্রভাষকের সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পা ক্ষতিগ্রস্ত হলে পঙ্গু হাসপাতালে অপারেশনের সময়ে হাড় জোড়া লাগাতে গিয়ে ভুলে বা অপরিপক্ব হাতে রগ কেটে ফেলা হয়; এই রগ কাটার কারণে রোগী বাঁচাতে অবশেষে রোগীর পা কেটে ফেলতে হয়। পঙ্গু হাসপাতালের দালালদের দৌরাত্ম্য নিয়ে যে সব সংবাদ প্রচারিত হয়েছে তা ভীতিজনক। একজন রোগী ভর্তি করার জন্য পঙ্গু হাসপাতালের একজন চিকিৎসককে দালালের তোষামদ করতে দেখেছি। এইরূপ পরিবেশ, পরিস্থিতি পরিবর্তনের কোন উদ্যোগ ও তাগাদা কখনো লক্ষ্য করা যায়নি।
পঙ্গু হাসপাতালের পাশে অবস্থিত সরকারি অর্থানুকূল্যে পরিচালিত ঢাকা শিশু হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল দরিদ্র শিশুর স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার উদ্দেশ্যে। শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা আর বয়ষ্কদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে পার্থক্য হচ্ছে, শিশুদের যে কোন চিকিৎসায় মাতৃকোলের মাতৃস্নেহের পরশ থাকা আবশ্যক। কিন্তু ঢাকা শিশু হাসপাতালের প্রথমদিকের ইতিবাচক ভাবমূর্তি এখন আর নেই। সরকারি অন্যান্য হাসপাতালের মতো এই শিশু হাসপাতাল সম্পর্কেও রোগী ও সংশ্লিষ্ট স্বজনদের সম অভিযোগ সমানভাবে রয়েছে। এই হাসপাতালেও নোংরা পরিবেশ, দালালের উৎপাত, চিকিৎসকদের একনিষ্ঠতার অভাব একইভাবে পরিলক্ষিত হয়।
১৮৭৫ সনে প্রতিষ্ঠিত রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসার নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল নানা অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনায় অসুস্থ। বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত এই হাসপাতালে দালালের দৌরাত্ম্য, বেড সংকট, বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামের অপ্রতুলতা, অ্যাম্বুলেন্সের অভাব, প্রবেশপথে যানজটসহ বিভিন্ন অব্যবস্থাপনায় হাসপাতালটি ঐতিহ্য হারিয়েছে বহু আগে। দালালদের উৎপাত, অসাধু কর্মচারীদের বেপরোয়া মনোভাব, চিকিৎসকদের দায়িত্বশীলতার অভাব, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের গাফলতি ঐতিহ্যবাহী হাসপাতালটিকে অকার্যকর করে তুলেছে। এই হাসপাতালের ব্যাপারে আমি একটু বেশি সংবেদনশীল; আমার দুই সন্তান অর্ণব ও ঐশীর জন্ম এই হাসপাতালে। এই হাসপাতাল সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত অনেকগুলো নেতিবাচক অভিজ্ঞতা রয়েছে। অনেকগুলোর মধ্যে আজ শুধু একটি বলবো। লিফট বন্ধ করে লিফটম্যান দূরে বসে গল্প করছে। অনেক লোক লাইনে দাঁড়ানো; লাইনে দাঁড়ানোদের মধ্যে একজন লিফটম্যানকে চিনতেন বলে নাম ধরে ডাক দিলেন। লিফটম্যানের সোজা উত্তর, ‘লিফট খারাপ’। লোকটি হেসে আবার বললেন, ‘আস, তোমার বকশিশ সবাই দেবে’। সাতাশ বছর পূর্বে লিফটম্যান এভাবে লিফট বন্ধ করে লিফট আরওহীদের নিকট থেকে চাঁদা তুলে লিফট চালু করেছিল। কর্তৃপক্ষের নিকট নালিশ করে কোন কাজ হয়নি। কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে লিফটম্যানকে বকশিশ দিয়ে আমাকেও পরদিন থেকে লিফটে উঠতে হয়েছিল।
সত্তর দশকে আমার এক আত্মীয়ের হার্ট অ্যাটাক হলে আমি কয়েকদিন সোহরাওয়ার্দী হাসপতালে রাত্রিযাপন করেছি। আমার কাছে তখন এই হাসপাতালটি একটি আদর্শ হাসপাতাল হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। আয়ারা তখনো বকশিশ প্রত্যাশা করতো, আমার কাছে চেয়েছিল, দিতে পারিনি। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুইশ’ টাকা দিয়ে এক মাস চলতে হতো। কিন্তু এই হাসপাতালের এখনকার অবস্থা যে খুবই খারাপ তা আমার এক ফেসবুক বন্ধুর লেখা থেকে জানতে পারি। আমার প্রাক্তন সহকর্মীর ছেলে ফেসবুকে এই হাসপাতাল সম্পর্কে আক্ষেপ করে লিখেছে, তার মুক্তিযোদ্ধা বাবার জন্য দুই হাজার ছয়শত টাকা ঘুষ দিয়ে কেবিন নিতে হয়েছে, ওষুধ, ইনেজকশন, ক্যাথাডার লাগানো ও খোলার জন্য নিয়মিত বিভিন্ন লোককে তার টাকা দিতে হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার বাবার চিকিৎসায় অনেক সুযোগ-সুবিধা বিনামূল্যে পাওয়ার কথা থাকলেও অনিয়ম আর অনাচারে সব নীতি ও মূল্যবোধ মার খেয়েছে।
[লেখক : বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]

কোন মন্তব্য নেই

মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷