গাজী নজরুল ইসলামের ভিডিও বিতর্ক: জামায়াতের পদক্ষেপ কী হতে পারে
বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের একটি ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওতে পাঞ্জাবি পরা অবস্থায় তাকে সালোয়ার-কামিজ পরিহিত এক তরুণীর সাথে ঘনিষ্ঠ দেখা যাচ্ছে।
এই বিতর্কের জবাবে মি. ইসলাম দাবি করেছেন, ওই তরুণী আসলে তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং গত ১৭ জুন তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতি নিয়েই তিনি এই বিয়ে করেছেন। তবে ভিন্ন তথ্যও সামনে এসেছে—তরুণীর একটি জীবনবৃত্তান্ত অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তার বৈবাহিক অবস্থা "অবিবাহিত" লেখা আছে এবং সেখানে সবুজ কালিতে মি. ইসলামের স্বাক্ষরসহ "জোর সুপারিশ করছি" মন্তব্য যুক্ত, যার তারিখ ২২ জুন ২০২৬—অর্থাৎ তার দাবি করা বিয়ের তারিখের পাঁচ দিন পর।
জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী তরুণীর জন্ম ২২ মে ২০০৮। এই হিসাবে ১৭ জুন বিয়ের দাবি সত্যি হলে সে সময় তার বয়স ছিল ১৮ বছর ২৬ দিন, আর ৭৭ বছর বয়সী মি. ইসলামের সাথে তার বয়সের ফারাক অনেক বড়।
উল্লেখযোগ্য, গাজী নজরুল ইসলাম এর আগে পঞ্চম ও অষ্টম জাতীয় সংসদেও জামায়াতের হয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সম্প্রতি সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাকে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
এই বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে ভাইরাল হয়েছে তার আরেকটি পুরনো ভিডিও, যেখানে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নারীদের শালীন চলাফেরা ও মাথায় পর্দা রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন—যা তার বর্তমান পরিস্থিতির সাথে বৈপরীত্যপূর্ণ বলে অনেকে মন্তব্য করছেন।
ভিডিও ধারণ ও প্রচারের জন্য মি. ইসলাম দায়ী করেছেন ওই তরুণীর এক মামাকে।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, দল বিষয়টি নজরে রাখছে এবং কোনো বেআইনি বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের পক্ষ থেকেও একই সুরে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
এখন পর্যন্ত জামায়াতের অবস্থান তদন্ত-নির্ভর ও অপেক্ষামূলক বলেই মনে হচ্ছে—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের ওপর।


কোন মন্তব্য নেই
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷