পলাশবাড়ীতে হরিদাসকে ঘিরে যৌথ গোয়েন্দা অভিযান, তদন্তে নানা তথ্য যাচাই চলছে
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে আলোচিত ব্যক্তি হরিদাসকে কেন্দ্র করে পরিচালিত র্যাব ও সিআইডির যৌথ অভিযানের পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে তাকে আটক করার পর বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, হরিদাস দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় এসি নির্মাণ ও প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিতে তার কিছু কার্যক্রম সন্দেহজনক মনে হওয়ায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, তার অতীত পরিচয়, সীমান্ত পারাপার এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। তিনি ভিন্ন নামে পরিচিত ছিলেন কি না এবং বিভিন্ন মহলে কীভাবে যোগাযোগ গড়ে তুলেছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া তার ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেনও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বড় অঙ্কের লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যা অর্থপাচার বা হুন্ডি-সংক্রান্ত কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না তা যাচাই করা হচ্ছে।
পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রাম মূর্তি নির্মাণের উদ্যোগকে ঘিরেও তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরকারি জমি ব্যবহার, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং এ উদ্যোগের পেছনে কোনো ধরনের আইনবহির্ভূত কার্যক্রম বা উসকানিমূলক উদ্দেশ্য ছিল কি না তা খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।
আদালতের অনুমতিতে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য সহযোগী, অর্থের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক শনাক্তে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের একাংশের মতে, সময়মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ এবং মন্দির কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মূর্তি নির্মাণের কাজ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের ফলে এলাকায় সম্ভাব্য উত্তেজনা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থপাচার, ষড়যন্ত্র ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷