সম্পদে এগিয়ে বিএনপি, শিক্ষায় জামায়াত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনে মোট ১০৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামা জমা দিয়েছেন। যাচাই-বাছাই শেষে এর মধ্যে ৭৬ জন প্রার্থী বৈধ হিসেবে টিকে থাকলেও ৩১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মু. রেজা হাসান।
প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে কুমিল্লায় মূল লড়াই হতে যাচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে। তুলনামূলকভাবে বিএনপির প্রার্থীরা সম্পদের দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও জামায়াত প্রার্থীরা শিক্ষাগত যোগ্যতায় এগিয়ে রয়েছেন।
কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি ও মেঘনা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ২০ কোটি ১৫ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য দিয়েছেন। তিনি পিএইচডি ডিগ্রিধারী। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মনিরুজ্জামান বাহালুলের সম্পদ ৪২ লাখ টাকা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসএস।
কুমিল্লা-২ (হোমনা ও তিতাস) আসনে বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া ৭ কোটি ৯০ লাখ টাকার সম্পদের মালিক। তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীনের সম্পদ ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএ।
কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে বিএনপির প্রার্থী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের সম্পদ ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি। অপরদিকে জামায়াত প্রার্থী ইউসুফ সোহেলের সম্পদ ৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, তিনি বিকম পাস—এ আসনে তিনি সম্পদে এগিয়ে।
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিএনপির সাবেক এমপি মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির সম্পদ ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। তিনি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার। জামায়াত জোটের প্রার্থী এনসিপির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর সম্পদ ৫০ লাখ টাকা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএ।
কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে বিএনপির জসিম উদ্দিনের সম্পদ ৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা, তিনি এসএসসি পাস। জামায়াত প্রার্থী ও সাবেক শিবির সভাপতি মোবারক হোসেনের সম্পদ ৯৫ লাখ টাকা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা পিএইচডি।
কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর ও সিটি এলাকা) আসনে বিএনপির মনিরুল হক চৌধুরীর সম্পদ ৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, তিনি এমএসসি পাস। জামায়াত প্রার্থী কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সম্পদ ৮৩ লাখ টাকা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএ।
কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে বিএনপি প্রার্থী রেদোয়ান আহমেদ ৫৫ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এলএমএম। জামায়াত প্রার্থী মাওলানা মোশারফ হোসেনের সম্পদ ৪২ লাখ টাকা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা কামিল।
কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে বিএনপির জাকারিয়া তাহের সুমনের সম্পদের পরিমাণ ২৩১ কোটি ৪১ লাখ টাকা। তিনি বিজনেস ম্যানেজমেন্টে স্নাতক। জামায়াত প্রার্থী শফিকুল আলম হেলালের সম্পদ ৪০ লাখ টাকা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএ।
কুমিল্লা-৯ (লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ) আসনে বিএনপির আবুল কালামের সম্পদ ৮১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। তিনি বিএ পাস। জামায়াত প্রার্থী সরোয়ার সিদ্দিকীর সম্পদ ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা এবং তিনি এমএ ও পিএইচডি ডিগ্রিধারী।
কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনে বিএনপির আবদুল গফুর ভূঁইয়ার সম্পদ ৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা মাস্টার্স। জামায়াত প্রার্থী ইয়াসিন আরাফাতের সম্পদ ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং তিনি এমফিল পাস।
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে বিএনপির কামরুল হুদার সম্পদ ১০ কোটি ৮ লাখ টাকা। তিনি এমএসএস পাস। অপরদিকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সম্পদ ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিবিএস।
সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, কুমিল্লার আসনগুলোতে সম্পদ ও শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান, যা নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।


কোন মন্তব্য নেই
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷