বেঈমানির দস্তখতের ময়নাতদন্ত!
শামিম হোসাইন তাহমিদঃ ৫ই মে বাংলাদেশের ইতিহাসে নির্মম গণহত্যার অধ্যায়। আজও অদৃশ্য শহীদি রক্তে জমাটবদ্ধ আছে মতিঝিলের শহীদ চত্বর (শাপলা চত্বর)। এখনো মতিঝিলের আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে আছে। বাতাসের তীব্র গতি প্রতি মুহূর্তে বলে, কি হলো মানব সন্তান! তোমরা এত ভীতু কাপুরষ কেন? তোমাদের শহীদ ভাইদের হত্যার বিচার করবে না? তাদের সেদিনের আত্ম-চিৎকার ও আহাজারি এবং তাজা রক্তে আমি ক্লান্ত! হে মানব সন্তান তোমরা আমাকে মুক্তি দাও! তোমাদের শহীদ ভাইদের রক্তের বদলা নাও।
আমি আজ ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ই মে দিন-রাত্রের ঐ ভয়ংকর ঘটনার বর্ণনা দিবোনা। সেদিনের কালো রাতের ঘটনার আলোকপাতও করবোনা। কারন এসব বিষয়ে আপনারা অবগত আছেন। এর আগের পোস্টে ঐ ঘটনার হুবহু বর্ণনা ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেছি। আজ শুধু বলবো কতিপয়তন্ত্রের স্বার্থপর ও বেঈমানদের বেঈমানী নিয়ে। বেঈমান কেন বললাম জানেন? মীরজাফর তো কি বিশ্বাসঘাতক ছিলো। তার চেয়ে শতগুণ বিশ্বাসঘাতক হলো কওমির লকবধারী কতিপয়শ্রেণীর হেফাজতে ইসলামে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু আলেম নামের জালেম। কারো নাম বলবো না,নাম লিখতে গেলে লম্বা একটা লাইন করতে হবে। হতে পারে তখন মূল আলোচনায় বেঘাত বিচ্যুতি ঘটতে পারে।
এইতো কিছুদিন আগেই আওয়ামী সভানেত্রী সহ সকল পর্যায়ের নেতারা একবাক্যে সবসময় বলে বেড়িয়েছে "বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত" জঙ্গি গোষ্ঠী। দেশে কিছু হলেই একই বাক্য ব্যবহার করেছে। এখনো এই বাক্যেই চলমান। কিন্তু শেষের নামটি কেটে গেছে। এখন শুধু "বিএনপি-জামায়াত"। এর মানে হলো আওয়ামী লীগে যায় ঢুকবে সব বৈধ ও কলঙ্কহীন। ২০১৮ সালে নভেম্বর মাসে সম্ভবত ৩রা নভেম্বর সেদিন অঘোষিত হরতাল দিয়ে, বাচ্চাদের জেএসসি পরীক্ষা বন্ধ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুকরানা মাহফিল করে গহরডাঙ্গার মুফতি রুহল আমীনের সাথে গলা মিলিয়ে আমার মুসলিম ভাইদের হত্যা করার মূলহোতা শেখ হাসিনাকে কওমি জননী উপাধি দেয় কওমীর একাংশ!
আমি সনদ (সার্টিফিকেট) এর বিরোধীতা করছিনা। সকল শিক্ষার শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি পাবার অধিকার আছে। এটা সবারই প্রাপ্য অধিকার। কিন্তু তার মানে এই নয় যার হাতে মুসলমানদের রক্ত রঞ্জিত। তার হাতে হাত মিলিয়ে পায়ে পড়তে হবে। এখন আওয়ামী লীগের কাছে তেঁতুল মিষ্টি ও কওমির কাছে শেখ হাসিনা রাক্ষসী থেকে মা! আরে বাহ্ কত নৈতিক অমানুষিকতা আপনাদের। হাসিনা জিকিরে ফিকির তোলা কওমির একাংশ স্বাভাবিকভাবেই গোলামী করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের।
তারা ভুলে গেছে অতর্কিত গুলি বর্ষণে হাজারো লাশের স্তুপ। তারা ভুলে গেছে এখনো অচল হয়ে ঘরে বসে থাকা সে রাতের ঘটনায় শরীরের অঙ্গ হারানো হাজার বীর মুসলিম সৈনিকদের অসহায়ত্ব। সেদিনের শুকরানা মাহফিল বর্জন করে তীব্র প্রতিবাদ করেছিলো। আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, মুফতি হারুন ইজাহার,মুফতি ফয়জুল্লাহ, মুফতি ওয়াক্কাস,নূর হোসাইন কাশেমী ও আল্লামা মামুনুল হক সহ আরো কিছু বীর সৈনিক। তাদের মনে আছে সেদিন রাতে সহযোদ্ধাদের সাথে কি করা হয়েছিল, তাদের মনে আছে রিমান্ডের নামে নির্মম অত্যাচারের কথা। শুনেছি পরিচ্ছন্ন কর্মীরা নাকি ময়লার স্তূপের মধ্যে আমার ভাইদের কঙ্কাল পেয়েছে। প্রায় যোগাযোগ মাধ্যমে খবর ভেসে আসে ৬ই মে মধ্যরাতে যৌথবাহিনীর অত্যাচারে অঙ্গ হারানো এই ভাইয়ের জন্য সহযোগিতা চাই। কি নির্মম! কিছু বীর সন্তান পরিবারের বোঝা হয়ে, বিছানায় পড়ে থেকে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে। আর একদল দালাল যার জন্য তাদের এই অবস্থা তার দালালি করে জননী বলে পা চাটছে। হাইরে বেঈমান কুলাঙ্গার।
আগে কওমির বক্তারা (সর্বজনীন নয়) ওয়াজ মাহফিলে ২০১৩ সালের ৫ ই মে'র ঘটনার প্রতিবাদ করে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানাতো, শহীদদের জন্য দোয়া করা হতো। আর এখন তারা কওমি জননীর পায়ে তেল মেখে বিভিন্ন ব্যক্তির গীবত ও সামলোচনা করে নিজেকে জ্ঞানী জাহির করে। আগে কওমী পন্থী ফেসবুক গ্রুপ-পেজে আওয়ামী লীগের অন্যায় অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা হতো। ৫ই মে নিয়ে সম্মুখ আলোচনা হতো। আর এখন তাদের জননীর পা চেটে বিএনপি-জামায়ত, ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সমালোচনা করে প্রমাণ করে যে, এই দেখুন আমরা সনদ পেয়ে আওয়ামী লীগের গোলাম হয়ে গেছি।
সেদিন মতিঝিলে শুধু কওমির ছাত্র-শিক্ষকরা'ই শুধু ছিলোনা। ছিলো, বিএনপি, জামায়াত,ছাত্রদল, ছাত্রশিবির সহ আমার মতো কিছু ইসলাম প্রিয় যুবক ও অরাজনৈতিক ইসলামণা হাজারো তৌহিদী জনতা। আমরা এখানে সামিল হয়েছিলাম নাস্তিক ব্লগারদের কর্তৃক.....
সর্বকালের, সর্বযুগের, সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব যাকে সৃষ্টি না করলে কিছুই সৃষ্টি হতোনা আমাদের হৃদয়ের স্পন্দন আখেরি নবী "হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম" এর শানে কটূক্তি করা কুলাঙ্গারদের ফাঁসির দাবি নিয়ে। বিনিময়ে পেয়েছি হাজারো লাশ! আর পেয়েছি চোখ,হাত, পা ও বিশেষ অঙ্গ হারানো কিছু বীর সন্তানদের।
যারা রাজপথে জীবন বিলিয়ে দিলো। যারা পরিবারকে এতিম করে চলে গেলো শেষ গন্তব্যে,যারা পঙ্গু হয়ে বসে থাকলো ঘরে। তাদের পরিবারের জন্য কি করেছেন? সন্তান হারানো বাবা-মায়ের কাছে যেয়ে কি একটু সান্ত্বনা দিয়েছেন? স্বামী হারানো বধূকে কি আশ্বাস দিয়েছেন? বাবা হারানো সন্তানদের মাথায় হাত দিয়ে কি ভরসা দিয়েছেন? দেননি কারণ সনদ ও সরকারের সুবিধা পেয়ে খুনীকে মা বানিয়ে পূজা করছেন আর হাসিনা জিকিরে মগ্ন আছেন। ভাববেন না সময় শুধু আপনাদেরই সঙ্গ দিবে। একদিন সময় আসবে সেদিন মূলহোতা, শেখ হাসিনা, বেনজির, শহিদুল, আসাদুজ্জামান, ভারতীয় 'র' এজেন্ট সহ আপনাদের মতো বেঈমানদেরও বিচার করবো #ইনশাআল্লাহ। আমার ইসলাম যদি সত্যি হয় তাহলে কসম ঐ মহান রাব্বুল আলামীনের সর্ব আগে বিচার করবো আপনাদের মত স্বার্থপর বেঈমানদের। কারণ মানুষ বিট্রিশদের চেয়েও বেশি ঘৃণা করে মীরজাফরকে। আপনারা হলেন মীরজাফরের বংশধর। আর আমরা ক্ষমা করলেও আমার "আল্লাহ তায়া'লা" ক্ষমা করবেন না। কারণ সামন্য কাগজের সনদের জন্য শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানী করেছেন। তাদের শহীদি মৃত্যুকে অস্বীকার করে টিভি ক্যামেরা, প্রিন্ট মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে নিজদের নাম মুসলমানের খাতা থেকে কেটে দিয়েছেন। এর ক্ষমা কেয়ামত অব্দি পাবেন না।
সেদিনের প্রতিহিংসার স্বীকার হয়ে অসহ্য যন্ত্রণা ভোগ করা কিছু বীর সন্তানদের নাম প্রকাশ করছি, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, মাওলানা মাইনুদ্দিন রুহি, ফরিদ উল্লাহ, শামসুল আলম, মহিবুল্লাহ বাবু, তাজুল ইসলাম, আবুল মালেক হালিম, আজিজুল হক ইসলামবাদি, আসানুল ক্বারী ফজলুল করিম জিহাদী, মুফতি হারুন ইজাহার, ইলিয়াছ ওসমানী, নূর হোসাইন কাসেমী, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাহফুজুল হক, আব্দুল কুদ্দুস, নুরুল ইসলাম, আবুল হাসনাত আমিনী, মোস্তফা আজাদ, মুফতি নুরুল আমীন, শাখাওয়াত হোসেন, জানায়েদ আল হাসিব, আতাউল্লাহ আমীন, গোলাম মহিউদ্দীন একরাম, শেখ লোকমান হোসেন, মুফতি শায়দুল ইসলাম, মোহাদ্দেস রফিকুল ইসলাম মাদানী, মুফতি শামসুল হক, মুফতি মনির হোসেন মুন্সি, আব্দুল কাদের, রফিকুল ইসলাম খান, আব্দুল জব্বার, ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, হামিদূর রহমান আজাদ, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, হাবিব-উন-নবী সোহেল, হাবিবুর রশীদ, রফিকুল ইসলাম মনজু, আজিজুল বারী হেলাল, শফিউল বারী বাবু,সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান ও সরাফত আলী সপু সহ৷ আরো অনেকে। উপরোক্ত সবার নামেই মামলা ছিলো। ওনাদের মধ্যে অনেকেই রিমান্ডের নামে নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন। ওনারা কিন্তু সবাই হেফাজতে ইসলামের নেতা নয়! বিএনপি, জামায়াত সহ বিভিন্ন ইসলামিক রাজনৈতিক দলের নেতাদেরও নাম আছে। যারা অতীতে যেমন আওয়ামী স্বৈরাচার খুনির বিরুদ্ধে ছিলেন, এখনো একই আছেন। তারা জানে ২০১৩ সালে আমাদের সাথে ভালো কিছু হয়নি। তাই এটা যদি ভুলে যায় তাহলে বিশ্বের নিকৃষ্ট বেঈমানদের তালিকায় সংযুক্ত হব। তাই তারা আজও সাহসী কণ্ঠে চিৎকার দিয়ে বলে আমার শহীদ ভাইদের হত্যার বিচার করতে চাই। #ইনশাআল্লাহ বিচার হবে, খুব কঠিন বিচার হবে। আগে বিচার পাচাটা কুকুর দালাল বেঈমানদের।
লেখাটা বোধহয় বড় হয়ে যাচ্ছে। থাক আজকের মতো। সময় পেলে পরবর্তীতে আরো আলোচনা করবো। অবশেষে বলি ৫-৬ই মে শহীদ হওয়া সকল শহীদ ভাইদের আত্নার মাগফেরাত কামনা করি। "আল্লাহ তায়া’লা" তাদের জান্নাতে সুউচ্চ মাকাম দান করুক পাশাপাশি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে থাকা সকল বীর সৈনিকদের সুস্থতা কামনা করি (আমিন)।
আমি আজ ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ই মে দিন-রাত্রের ঐ ভয়ংকর ঘটনার বর্ণনা দিবোনা। সেদিনের কালো রাতের ঘটনার আলোকপাতও করবোনা। কারন এসব বিষয়ে আপনারা অবগত আছেন। এর আগের পোস্টে ঐ ঘটনার হুবহু বর্ণনা ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেছি। আজ শুধু বলবো কতিপয়তন্ত্রের স্বার্থপর ও বেঈমানদের বেঈমানী নিয়ে। বেঈমান কেন বললাম জানেন? মীরজাফর তো কি বিশ্বাসঘাতক ছিলো। তার চেয়ে শতগুণ বিশ্বাসঘাতক হলো কওমির লকবধারী কতিপয়শ্রেণীর হেফাজতে ইসলামে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু আলেম নামের জালেম। কারো নাম বলবো না,নাম লিখতে গেলে লম্বা একটা লাইন করতে হবে। হতে পারে তখন মূল আলোচনায় বেঘাত বিচ্যুতি ঘটতে পারে।
এইতো কিছুদিন আগেই আওয়ামী সভানেত্রী সহ সকল পর্যায়ের নেতারা একবাক্যে সবসময় বলে বেড়িয়েছে "বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত" জঙ্গি গোষ্ঠী। দেশে কিছু হলেই একই বাক্য ব্যবহার করেছে। এখনো এই বাক্যেই চলমান। কিন্তু শেষের নামটি কেটে গেছে। এখন শুধু "বিএনপি-জামায়াত"। এর মানে হলো আওয়ামী লীগে যায় ঢুকবে সব বৈধ ও কলঙ্কহীন। ২০১৮ সালে নভেম্বর মাসে সম্ভবত ৩রা নভেম্বর সেদিন অঘোষিত হরতাল দিয়ে, বাচ্চাদের জেএসসি পরীক্ষা বন্ধ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুকরানা মাহফিল করে গহরডাঙ্গার মুফতি রুহল আমীনের সাথে গলা মিলিয়ে আমার মুসলিম ভাইদের হত্যা করার মূলহোতা শেখ হাসিনাকে কওমি জননী উপাধি দেয় কওমীর একাংশ!
আমি সনদ (সার্টিফিকেট) এর বিরোধীতা করছিনা। সকল শিক্ষার শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি পাবার অধিকার আছে। এটা সবারই প্রাপ্য অধিকার। কিন্তু তার মানে এই নয় যার হাতে মুসলমানদের রক্ত রঞ্জিত। তার হাতে হাত মিলিয়ে পায়ে পড়তে হবে। এখন আওয়ামী লীগের কাছে তেঁতুল মিষ্টি ও কওমির কাছে শেখ হাসিনা রাক্ষসী থেকে মা! আরে বাহ্ কত নৈতিক অমানুষিকতা আপনাদের। হাসিনা জিকিরে ফিকির তোলা কওমির একাংশ স্বাভাবিকভাবেই গোলামী করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের।
তারা ভুলে গেছে অতর্কিত গুলি বর্ষণে হাজারো লাশের স্তুপ। তারা ভুলে গেছে এখনো অচল হয়ে ঘরে বসে থাকা সে রাতের ঘটনায় শরীরের অঙ্গ হারানো হাজার বীর মুসলিম সৈনিকদের অসহায়ত্ব। সেদিনের শুকরানা মাহফিল বর্জন করে তীব্র প্রতিবাদ করেছিলো। আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, মুফতি হারুন ইজাহার,মুফতি ফয়জুল্লাহ, মুফতি ওয়াক্কাস,নূর হোসাইন কাশেমী ও আল্লামা মামুনুল হক সহ আরো কিছু বীর সৈনিক। তাদের মনে আছে সেদিন রাতে সহযোদ্ধাদের সাথে কি করা হয়েছিল, তাদের মনে আছে রিমান্ডের নামে নির্মম অত্যাচারের কথা। শুনেছি পরিচ্ছন্ন কর্মীরা নাকি ময়লার স্তূপের মধ্যে আমার ভাইদের কঙ্কাল পেয়েছে। প্রায় যোগাযোগ মাধ্যমে খবর ভেসে আসে ৬ই মে মধ্যরাতে যৌথবাহিনীর অত্যাচারে অঙ্গ হারানো এই ভাইয়ের জন্য সহযোগিতা চাই। কি নির্মম! কিছু বীর সন্তান পরিবারের বোঝা হয়ে, বিছানায় পড়ে থেকে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে। আর একদল দালাল যার জন্য তাদের এই অবস্থা তার দালালি করে জননী বলে পা চাটছে। হাইরে বেঈমান কুলাঙ্গার।
আগে কওমির বক্তারা (সর্বজনীন নয়) ওয়াজ মাহফিলে ২০১৩ সালের ৫ ই মে'র ঘটনার প্রতিবাদ করে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানাতো, শহীদদের জন্য দোয়া করা হতো। আর এখন তারা কওমি জননীর পায়ে তেল মেখে বিভিন্ন ব্যক্তির গীবত ও সামলোচনা করে নিজেকে জ্ঞানী জাহির করে। আগে কওমী পন্থী ফেসবুক গ্রুপ-পেজে আওয়ামী লীগের অন্যায় অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা হতো। ৫ই মে নিয়ে সম্মুখ আলোচনা হতো। আর এখন তাদের জননীর পা চেটে বিএনপি-জামায়ত, ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সমালোচনা করে প্রমাণ করে যে, এই দেখুন আমরা সনদ পেয়ে আওয়ামী লীগের গোলাম হয়ে গেছি।
সেদিন মতিঝিলে শুধু কওমির ছাত্র-শিক্ষকরা'ই শুধু ছিলোনা। ছিলো, বিএনপি, জামায়াত,ছাত্রদল, ছাত্রশিবির সহ আমার মতো কিছু ইসলাম প্রিয় যুবক ও অরাজনৈতিক ইসলামণা হাজারো তৌহিদী জনতা। আমরা এখানে সামিল হয়েছিলাম নাস্তিক ব্লগারদের কর্তৃক.....
সর্বকালের, সর্বযুগের, সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব যাকে সৃষ্টি না করলে কিছুই সৃষ্টি হতোনা আমাদের হৃদয়ের স্পন্দন আখেরি নবী "হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম" এর শানে কটূক্তি করা কুলাঙ্গারদের ফাঁসির দাবি নিয়ে। বিনিময়ে পেয়েছি হাজারো লাশ! আর পেয়েছি চোখ,হাত, পা ও বিশেষ অঙ্গ হারানো কিছু বীর সন্তানদের।
যারা রাজপথে জীবন বিলিয়ে দিলো। যারা পরিবারকে এতিম করে চলে গেলো শেষ গন্তব্যে,যারা পঙ্গু হয়ে বসে থাকলো ঘরে। তাদের পরিবারের জন্য কি করেছেন? সন্তান হারানো বাবা-মায়ের কাছে যেয়ে কি একটু সান্ত্বনা দিয়েছেন? স্বামী হারানো বধূকে কি আশ্বাস দিয়েছেন? বাবা হারানো সন্তানদের মাথায় হাত দিয়ে কি ভরসা দিয়েছেন? দেননি কারণ সনদ ও সরকারের সুবিধা পেয়ে খুনীকে মা বানিয়ে পূজা করছেন আর হাসিনা জিকিরে মগ্ন আছেন। ভাববেন না সময় শুধু আপনাদেরই সঙ্গ দিবে। একদিন সময় আসবে সেদিন মূলহোতা, শেখ হাসিনা, বেনজির, শহিদুল, আসাদুজ্জামান, ভারতীয় 'র' এজেন্ট সহ আপনাদের মতো বেঈমানদেরও বিচার করবো #ইনশাআল্লাহ। আমার ইসলাম যদি সত্যি হয় তাহলে কসম ঐ মহান রাব্বুল আলামীনের সর্ব আগে বিচার করবো আপনাদের মত স্বার্থপর বেঈমানদের। কারণ মানুষ বিট্রিশদের চেয়েও বেশি ঘৃণা করে মীরজাফরকে। আপনারা হলেন মীরজাফরের বংশধর। আর আমরা ক্ষমা করলেও আমার "আল্লাহ তায়া'লা" ক্ষমা করবেন না। কারণ সামন্য কাগজের সনদের জন্য শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানী করেছেন। তাদের শহীদি মৃত্যুকে অস্বীকার করে টিভি ক্যামেরা, প্রিন্ট মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে নিজদের নাম মুসলমানের খাতা থেকে কেটে দিয়েছেন। এর ক্ষমা কেয়ামত অব্দি পাবেন না।
সেদিনের প্রতিহিংসার স্বীকার হয়ে অসহ্য যন্ত্রণা ভোগ করা কিছু বীর সন্তানদের নাম প্রকাশ করছি, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, মাওলানা মাইনুদ্দিন রুহি, ফরিদ উল্লাহ, শামসুল আলম, মহিবুল্লাহ বাবু, তাজুল ইসলাম, আবুল মালেক হালিম, আজিজুল হক ইসলামবাদি, আসানুল ক্বারী ফজলুল করিম জিহাদী, মুফতি হারুন ইজাহার, ইলিয়াছ ওসমানী, নূর হোসাইন কাসেমী, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাহফুজুল হক, আব্দুল কুদ্দুস, নুরুল ইসলাম, আবুল হাসনাত আমিনী, মোস্তফা আজাদ, মুফতি নুরুল আমীন, শাখাওয়াত হোসেন, জানায়েদ আল হাসিব, আতাউল্লাহ আমীন, গোলাম মহিউদ্দীন একরাম, শেখ লোকমান হোসেন, মুফতি শায়দুল ইসলাম, মোহাদ্দেস রফিকুল ইসলাম মাদানী, মুফতি শামসুল হক, মুফতি মনির হোসেন মুন্সি, আব্দুল কাদের, রফিকুল ইসলাম খান, আব্দুল জব্বার, ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, হামিদূর রহমান আজাদ, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, হাবিব-উন-নবী সোহেল, হাবিবুর রশীদ, রফিকুল ইসলাম মনজু, আজিজুল বারী হেলাল, শফিউল বারী বাবু,সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান ও সরাফত আলী সপু সহ৷ আরো অনেকে। উপরোক্ত সবার নামেই মামলা ছিলো। ওনাদের মধ্যে অনেকেই রিমান্ডের নামে নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন। ওনারা কিন্তু সবাই হেফাজতে ইসলামের নেতা নয়! বিএনপি, জামায়াত সহ বিভিন্ন ইসলামিক রাজনৈতিক দলের নেতাদেরও নাম আছে। যারা অতীতে যেমন আওয়ামী স্বৈরাচার খুনির বিরুদ্ধে ছিলেন, এখনো একই আছেন। তারা জানে ২০১৩ সালে আমাদের সাথে ভালো কিছু হয়নি। তাই এটা যদি ভুলে যায় তাহলে বিশ্বের নিকৃষ্ট বেঈমানদের তালিকায় সংযুক্ত হব। তাই তারা আজও সাহসী কণ্ঠে চিৎকার দিয়ে বলে আমার শহীদ ভাইদের হত্যার বিচার করতে চাই। #ইনশাআল্লাহ বিচার হবে, খুব কঠিন বিচার হবে। আগে বিচার পাচাটা কুকুর দালাল বেঈমানদের।
লেখাটা বোধহয় বড় হয়ে যাচ্ছে। থাক আজকের মতো। সময় পেলে পরবর্তীতে আরো আলোচনা করবো। অবশেষে বলি ৫-৬ই মে শহীদ হওয়া সকল শহীদ ভাইদের আত্নার মাগফেরাত কামনা করি। "আল্লাহ তায়া’লা" তাদের জান্নাতে সুউচ্চ মাকাম দান করুক পাশাপাশি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে থাকা সকল বীর সৈনিকদের সুস্থতা কামনা করি (আমিন)।


কোন মন্তব্য নেই
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷