৯২ বয়সেও হার মানেননি জীবন যুদ্ধে

আব্দুস সামাদ। ৯২ বয়সেও হার মানেননি জীবন যুদ্ধে। এমনকি বিশ্বব্যাপী দাঁপিয়ে বেড়ানো করোনা ভাইরাসও তাকে দমাতে পারেনি। এখনো রোজ পাঁপড় নিয়ে চষে বেড়ান আজিমপুর -লালবাগ-হাজারীবাগ আর কামরাঙ্গীর চড়ের অলিগলি।
আগে প্রায় প্রতিদিনই দেখা হতো ওনার সাথে। আমি ফজর নামাজ পড়ে যেতাম জীমে। আর সামাদ চাচা তখন পাঁপড় নিয়ে বের হতেন ব্যবসায়। ওনাকে দেখে যে কারোই মায়া লাগবে। রোজ সালাম বিনিময় ও টুকটাক কথা হতো। ভদ্রলোক অভাবী হলেও সাংঘাতিক ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ। আর্থিক সহযোগিতার কথা বললে বলতেন- "যে হাতে অস্ত্র চালিয়ে দেশ স্বাধীন করেছি সে হাতে ভিক্ষা করবো না বাজান। আমি কারো দয়াও চাই না। এই বেশ ভালো আছি।"
ওনার কথা শুনে আমি ফ্যাল ফ্যাল করে তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি। বিরবির করে বলি, শাবাশ ব্যাটা! মনে মনে স্যালুট জানাই। একদিন বললাম, কাকা আপনাকে নিয়ে পত্রিকায় একটা লেখা দিতে চাই। কাকা একগাল হেসে বললেন, লেখেন। তারপর করোনা যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়! লেখাটা রেডি হয়েছে। গত ১৪ মার্চ প্রিয়জন পাতায় আসার কথা থাকলেও আর হয়ে ওঠেনি। পাঠক পাতাটা আপাতত বন্ধ।
মনে মনে কয়েকদিন যাবৎ খুঁজছি উনাকে। গতকাল হঠাৎ সাত শহিদ কমিউনিটি সেন্টারের সামনে দেখা। পাঁপড় নিয়ে যবুথবু হয়ে বসে আছেন। আমরা এই তাগড়া শরীরেও এখন ঘরের কোনায় পালিয়ে থেকে যুদ্ধ করছি, আর কাকা পেটের তাগিদে রোজ মাঠে করোনাকে তাড়িয়ে বেরাচ্ছে। বললাম আরে কাকা, উনি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন ও আপনি। আমারে লেহা দ্যাহালেন ন। বললাম,সরি কাকা, করোনায় পাতাটা আটকে গেছে। পাবেন শিগ্রী। ক্যামন আছেন জানতে চাইলে মুখটা ফ্যাকাশে করে বলেন, আছি বাজান কোন রহম। শরীরটা দুইদিন যাবৎ ভালো যাতেছে না।
মুখের দিকে তাকিয়ে খুব মায়া লাগলো। মানিব্যাগ থেকে একটা এক হাজার টাকার নোট বের করে হাতের মধ্যে গুঁজে দিলাম। ইতস্তত করে নোটটা টান টান করে হাতে মেলে ধরে দু'ফোটা চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললেন, আল্লায় আপনার ভালো করুক বাজান !
জীবনযুদ্ধে হার মানলে চলবে না, তাইতো প্রবীণ এই মুক্তিযোদ্ধার পথচলা এখনো অব্যাহত আছে।
সংগ্রহীত।
আগে প্রায় প্রতিদিনই দেখা হতো ওনার সাথে। আমি ফজর নামাজ পড়ে যেতাম জীমে। আর সামাদ চাচা তখন পাঁপড় নিয়ে বের হতেন ব্যবসায়। ওনাকে দেখে যে কারোই মায়া লাগবে। রোজ সালাম বিনিময় ও টুকটাক কথা হতো। ভদ্রলোক অভাবী হলেও সাংঘাতিক ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ। আর্থিক সহযোগিতার কথা বললে বলতেন- "যে হাতে অস্ত্র চালিয়ে দেশ স্বাধীন করেছি সে হাতে ভিক্ষা করবো না বাজান। আমি কারো দয়াও চাই না। এই বেশ ভালো আছি।"
ওনার কথা শুনে আমি ফ্যাল ফ্যাল করে তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি। বিরবির করে বলি, শাবাশ ব্যাটা! মনে মনে স্যালুট জানাই। একদিন বললাম, কাকা আপনাকে নিয়ে পত্রিকায় একটা লেখা দিতে চাই। কাকা একগাল হেসে বললেন, লেখেন। তারপর করোনা যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়! লেখাটা রেডি হয়েছে। গত ১৪ মার্চ প্রিয়জন পাতায় আসার কথা থাকলেও আর হয়ে ওঠেনি। পাঠক পাতাটা আপাতত বন্ধ।
মনে মনে কয়েকদিন যাবৎ খুঁজছি উনাকে। গতকাল হঠাৎ সাত শহিদ কমিউনিটি সেন্টারের সামনে দেখা। পাঁপড় নিয়ে যবুথবু হয়ে বসে আছেন। আমরা এই তাগড়া শরীরেও এখন ঘরের কোনায় পালিয়ে থেকে যুদ্ধ করছি, আর কাকা পেটের তাগিদে রোজ মাঠে করোনাকে তাড়িয়ে বেরাচ্ছে। বললাম আরে কাকা, উনি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন ও আপনি। আমারে লেহা দ্যাহালেন ন। বললাম,সরি কাকা, করোনায় পাতাটা আটকে গেছে। পাবেন শিগ্রী। ক্যামন আছেন জানতে চাইলে মুখটা ফ্যাকাশে করে বলেন, আছি বাজান কোন রহম। শরীরটা দুইদিন যাবৎ ভালো যাতেছে না।
মুখের দিকে তাকিয়ে খুব মায়া লাগলো। মানিব্যাগ থেকে একটা এক হাজার টাকার নোট বের করে হাতের মধ্যে গুঁজে দিলাম। ইতস্তত করে নোটটা টান টান করে হাতে মেলে ধরে দু'ফোটা চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললেন, আল্লায় আপনার ভালো করুক বাজান !
জীবনযুদ্ধে হার মানলে চলবে না, তাইতো প্রবীণ এই মুক্তিযোদ্ধার পথচলা এখনো অব্যাহত আছে।
সংগ্রহীত।

কোন মন্তব্য নেই
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷