https://www.effectivegatecpm.com/rn8qbtaqk?key=a6bb032d522890bffe519fa4928f6d14 অপূর্ণ ভালোবাসা (ছোট গল্প) - Gaibandha Online Portal

Breaking News

অপূর্ণ ভালোবাসা (ছোট গল্প)


Image may contain: 1 person

@ আদনান আসিফ 
রাত প্রায় ৯টা । বাইরে ঝুম বৃষ্টি। বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে খুব। সবাই রাস্তা ছেড়ে বাসায় ঢুকে গিয়েছে। ফুটপাত ধরে ছাতা মাথায় দিয়ে টিউশনি থেকে ফিরছে বন্যা । দূর থেকে দেখতে পেল একটি ছেলে যাত্রীছাউনিতে বসে সিগারেট টানছে। আশেপাশে কেউ নেই। কাছে গেল বন্যা । ছেলেটার চুল উষ্কোখুষ্কো। দাড়ি-গোঁফে মুখ ভরে আছে। একটু ভয় করল বন্যার । তবুও কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল -
" এক্সকিউজ মি ! আপনি কী বিপদে পড়েছেন?মানে ছাতা-টাতা কিছু নেই?"
" ছাতা নেই ঠিক । কিন্তু বিপদে পড়িনি । আপনাকে আমাকে নিয়ে ভাবতে হবে না। আপনি যেখানে যাচ্ছিলেন সেখানে যান।"
ছেলেটার কথার আগামাথা কিছুই না বুঝতে পেরে বাসার দিকে গেল বন্যা। যাত্রীছাউনির পাশের গলির মুখেই বন্যার বাসা । বাসায় গিয়ে গোসল সেরে , খাওয়া-দাওয়া করে রুমে গিয়ে বসল বন্যা। বন্যার রুম রাস্তার পাশে ৪ তলার উপরে। জানালা দিয়ে দেখতে পেল যাত্রীছাউনির ছেলেটি এখনো যায়নি । কিছুক্ষণ বৃষ্টি দেখে একটা উপন্যাস পড়তে শুরু করল বন্যা । পড়া শেষ হয়ে প্রায় ১১:৩০ বাজতেই বন্যা দেখতে পেল ছেলেটা বৃষ্টিতে ভিজে ভিজেই হাঁটা শুরু করেছে। কিছু না ভেবে ঘুমিয়ে পড়ল বন্যা ।
সকালে উঠে ভার্সিটিতে গেল বন্যা। ১ম বর্ষের ছাত্রী। সবে ১ মাস হলো ভর্তি হয়েছে। ভার্সিটিতে যাওয়া-আসা করছিল বন্যা। ৩দিন পর বান্ধবীদের সাথে হাসাহাসি করতে করতে সেই যাত্রীছাউনির ছেলেটাকে দেখল বন্যা। ছেলেটি চুপচাপ বসে আছে। তার বন্ধুরা তাকে কী যেন বুঝাচ্ছে। বন্যা বান্ধবীদের দেখাল আর সেদিনের ঘটনা বলল।
বন্যা- " আচ্ছা ছেলেটা এরকম অদ্ভুত কেন?"
শ্রেষ্ঠা (বন্যার বান্ধবী)- " মনে হয় ওর মাথায় গু আর ব্যাকসাইডে ব্রেইন । "
সবার অট্টহাসি।
বন্যা ছেলেটার সামনে গিয়ে বলল - " আপনার সাথে একটু কথা বলতে পারি?"
" জ্বি বলেন।"
" আমার নাম বন্যা । একদিন যাত্রীছাউনিতে আপনার সাথে দেখা হয়েছিল ।"
" ও আচ্ছা। আসলে সেদিন মাথা ঠিক ছিলনা । বাই দা ওয়ে আমার নাম জোহাইর। ফিজিক্সে থার্ড ইয়ার ।"
" ও তাই! আমিও ফিজিক্সে ফার্স্ট ইয়ার। ভালোই হলো ভাইয়া। আপনার থেকে আমি নোটস্ নিব কিন্তু। "
" হুম নিশ্চয়ই।"
" আগে কখনো আপনাকে দেখিনি । "
" লাস্ট একমাস ক্লাস করিনি । ফ্যামিলিগত প্রবলেম ছিল। "
" ওহ্ ।"
সেদিন অনেকক্ষণ কথা হলো ওদের । একসময় ফোন নাম্বার দেওয়া-নেওয়া করল দুইজন। এভাবে প্রায় একমাস ভার্সিটিতে আর ফোন এ কথা হতো ওদের। ১ মাস পর জোহাইর বন্যাকে বাইরে কোথাও দেখা করতে বলে । রাজিও হয়ে যায় বন্যা। একটা রেস্টুরেন্টে দেখা করার কথা । বন্যা বসে আছে অনেকক্ষণ। কিন্তু জোহাইর আর এলো না। ফোনেও পাচ্ছেনা ওকে। খুব রাগ করে ও ফিরে গেল ।
পরদিন ভার্সিটিতে বন্যা- " কালকে আসেন নাই কেন? আমার সাথে নাটক করেন? " ( রেগে )
" আমি তোমার সাথে কিছু কথা শেয়ার করি তাহলে বুঝতে পারবা। আসলে ২ বছর আগে আমার মা মারা যায়। আমার মা-বাবার বিয়ে হয়েছিল জোর করে। বাবা রাজি ছিলেন না। আসলে বাবার অন্যজনের সাথে সম্পর্ক ছিল । মা মারা যাওয়ার ১সপ্তাহ পর বাবা হঠাৎ বাসা থেকে চলে যান । প্রাক্তন প্রেমিকার সাথে বিয়ে করেন। সেই প্রেমিকাও তার জামাইকে ডিভোর্স দেয় বাবাকে পাওয়ার জন্য । বাবা রেখে যায় ১টা ২ তলা বাড়ি। ১ ফ্লোর আমার আর অন্য ফ্লোর আমার বোনের পাওয়ার কথা। বোন ২ তলা পুরোটাই চায় । তাই আমার নামে মিথ্যা মামলা করে। কাল পুলিশ এসেছিল আমাকে চার্জ করতে। তাই আসতে পারিনি । ওরা আমার ফোন নিয়ে যায়। সাইলেন্ট ছিল বলে শুনতে পায়নি । রাত হয়ে গিয়েছিল বলে কল ব্যাক করিনি।"

বন্যা চুপ করে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে । নীরবতা ভেঙ্গে বন্যা- " আই এম সরি । বুঝতে পারি নাই । মাফ করে দেন প্লিজ।"
" ইটস্ ওকে। দোষটা আমারই । সরি । "
এরপর নিয়মিত ওদের কথা হতে থাকে, দেখা হতে থাকে। একদিন হঠাৎ বন্যা বলল -
" আচ্ছা বলেন, আপনার কাছে ভালোবাসা মানে কী?"
" উমম, আমি শিশির ভেজা ঘাসে হাত ধরে হাঁটা বা রৌদ্র দুপুরে ঘাম মুছে দেওয়ার ভালোবাসায় বিশ্বাসী না। আমার কাছে ভালোবাসা মানে কিছু না আবার সবকিছু। Love is nothing but everything."
" আমি কি আপনার কিছুই না আবার সবকিছু হতে পারি?"
জোহাইর মুচকি হেসে বুঝিয়ে দেয় ও ও তাই চায় । এখান থেকে ওদের প্রেম শুরু। একজন আদর্শ প্রেমিকের যা যা করার সবই করে জোহাইর।
একসময় বন্যার বাবা সব জেনে গিয়ে বিরোধীতা করতে শুরু করেন। বলেন-
" যার কোনো ফ্যামিলি নাই তার সাথে মেয়ের বিয়ে আমি দেব না । তাছাড়া এর চেয়ে ভালো পাত্র আমার কাছে আছে ।"
১ সপ্তাহের মধ্যে বন্ধুর ছেলের সাথে বিয়ে ঠিক করে ফেলেন তিনি। এই ১ সপ্তাহে বন্যা অনেকবার জোহাইরের সাথে পালিয়ে যেতে চায় কিন্তু ওর একটাই কথা- " ফ্যামিলি হারানোর কষ্টটা আমি বুঝি।"
তবে পালাতে চাইলেও পারত না। কারণ বন্যার বাবা এই ব্যাপারে খুব সতর্ক আর স্ট্রিক্ট ছিলেন। বিয়ের ঠিক আগের রাতে বন্যা কল দিল জোহাইরকে । কোনো কথা না বলে হু হু করে কাঁদতে লাগল বন্যা। অনেকক্ষণ পর কান্না থামল। জোহাইর দেখল টানা ৭ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড কেঁদেছে।
জোহাইর - " ৭ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড হয়ে গেছে । এবার থামো প্লিজ।"
একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বন্যা - " বিদায় । ভালো থেকো। "
এই বলেই ফোনটা কেটে দিলো বন্যা। জোহাইর কিন্তু কাঁদে নি । হয়তো কষ্ট পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে অশ্রূ শুকিয়ে গেছে।
বিয়ের দিন জোহাইর গেল বন্যাদের বাড়ির কাছে। চারদিকে নিয়ন বাতি। সবার মনে আনন্দ। নেই শুধু বন্যা আর জোহাইর এর মনে। সেখান থেকেই ফিরে গেল জোহাইর । বন্যা দেখেছিল । ডাক দেয়নি। সেদিনের পর ওই যাত্রীছাউনিতে অনেকবার বসে সিগারেট টেনেছিল জোহাইর। কিন্তু বন্যা আর আসেনি।

১টা পুরোনো ডায়রিতে লেখাগুলো এতক্ষণ পড়ছিল তন্ময়। তন্ময় বন্যার ছেলে । বন্যা এখন আর রুপবতী সেই মেয়েটি নয়। ৮০ বছরের চামড়ায় ভাঁজ পড়া বিধবা বৃদ্ধা । তাকে সব জিজ্ঞেস করল তন্ময়। জানতে পেরে জোহাইরকে খুঁজতে লাগল তন্ময় । অনেক খোঁজাখুঁজির পর পেল তাকে । জোহাইরকে ঠিক পায়নি, পেয়েছে জোহাইরের কবরটাকে ।
-----সমাপ্তি----
@ আদনান আসিফ 

কোন মন্তব্য নেই

মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷