মাদ্রাসা পড়ুয়া কুমারী বৃষ্টির সন্তান প্রসব,অতঃপর এলাকায়-তোলপাড়
সাঘাটার বাঁশহাটা গ্রামের কুমারী ষোড়শী কন্যা মরিয়ম আক্তার বৃষ্টির সদ্য গর্ভজাত কন্যা সন্তানের পিতার পরিচয়ের দাবিতে সমাজের মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ানোর ১৭ দিন পর অবশেষে ২৫ সেপ্টেম্বর উভয় পক্ষের পরিবারের সমঝোতায় ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় শিশুটি তার পিতার বৈধ স্বীকৃতি পেয়েছে।
আর সেই বৈধ স্বীকৃতি দিয়েছে মতলুর পুত্র প্রেমিক আলিফ নুর।একটি মহল বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা করলেও ঘটনাটি ফেসবুকে ভাইরাল ও বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশে সমাজের মানুষের মাঝে গুঞ্জন উঠে। পরে মতলুর পুত্র আলিফ নুর সকল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মরিয়ম আক্তার বৃষ্টিকে গতকাল বুধবার ২লাখ ৫০ হাজার টাকা দেন মোহর ধার্য করে বিধি মোতাবেক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে।
সেই সাথে আলিফের প্রেমের ফসল ওই শিশু আরিফাকে নিজের সন্তান হিসেবে মেনে নিয়েছে। ফলে উভয় পরিবারের মাঝের অশান্তি দুর হয়েছে। মরিয়ম আক্তার বৃষ্টির পরিবার তার মেয়ের সুখ শান্তি ও সংসারে আয় উন্নতির জন্য ১ লাখ টাকা আলিফ নুরের পরিবারকে দেয়ার আশ্বাস প্রদান করেন। তার মধ্যে ৭০ হাজার টাকা উপস্থিত অনেকের সামনে আলিফ নুরের পিতা মতলুর হাতে তুলে দেন। বাকি ৩০ হাজার টাকা আগামী ১০ অক্টোবর দেয়ার কথা স্বীকার করেন মরিয়মের পিতা। উভয় পরিবারের সম্মতিক্রমেই সকল বিষয়ের নিষ্পত্তি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, মামলা থেকে বাঁচতেই বিয়ে করা বা মেনে নেয়া আলিফ নুরের পরিবারের একটি কৌশলমাত্র। একটি মহল অদ্যবধি বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা করেছে। কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার তাদের সংসারে ভাঙনের সুর বাজতে পারে।
মরিয়মের পিতা জানায়, আমি খুব গরিব। অনেক কষ্ট করে টাকা যোগাড় করে আমার জামাতা ও কন্যার সুখের জন্য দিলাম। আমার মেয়ের মান সম্মান আলিফ নুর ও তার পরিবারের হাতে তুলে দিলাম। তারা যদি আমার মেয়ের সাথে অবিচার করে তাহলে তার বিচার আল্লাহ করবে। তিনি আরো বলেন, আমার কুমারী কন্যার গর্ভের সন্তানের পিতৃ পরিচয় দিয়েছে তাই ওই পরিবারের কাছেও আমি কৃতজ্ঞ। এখন আমি মরেও শান্তি পাবো।

এব্যাপারে মতলু জানায়, ছেলে অপরাধ করেছে, তাই আমি এই বিয়েতে মত দিয়েছি। টাকার ব্যাপারে জানতে চাইলে সে বলেন, আমি কোন টাকা পয়সা চাই নাই। বৃষ্টির বাবা তার জামাতা ও কন্যার সুখের কথা ভেবে নিজেরা দিয়েছে। তবে তিনি ৭০ হাজার টাকা পেয়েছেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, মরিয়ম আক্তার বৃষ্টি ও আলিফ নুর দুজনই খামার ধনারুহা দাখিল মাদ্রাসায় লেখাপড়া করার সুবাদে ভালোবাসার সর্ম্পক গড়ে উঠে। ভালোলাগা ভালোবাসার সর্ম্পকটি একসময় গভীর প্রেমের সর্ম্পকে রুপ নেয়। এক সময় সরল বিশ্বাসে বৃষ্টি আলিফের কথায় রাজী হয়ে তার ইচ্ছা পুরণ করতে থাকে।আলিফ নুরের ভাবীর মাধ্যমে বাড়িতেও মাঝে মাঝে ডেকে নিতো বৃষ্টিকে।
একাধিকবার অবৈধ মেলামেশায় বৃষ্টির গর্ভে সন্তান আসে। তবে বিষয়টি দীর্ঘ কয়েক মাস পর বুঝতে পেরে বৃষ্টি প্রেমিক আলিফ নুরকে জানায়। আলিফ তখন বৃষ্টিকে তার গর্ভের সন্তানটি নষ্ট করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু সৃষ্টি কর্তার লীলা খেলা বুঝা বড় দায়। সকল বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে গত ৮ সেপ্টেম্বর ধরণীর বুকে আসে আলিফ বৃষ্টির প্রেমের ফসল ফুটফুটে এক নবজাতক কন্যা শিশু।
কুমারী বৃষ্টির গর্ভের সন্তানের খবর ছড়িয়ে পড়ে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায়। বৃষ্টির গর্ভের সন্তানকে দেখতে উৎসুক জনতা ভীড় জমাতে থাকে। প্রকাশ পায় আলিফ বৃষ্টির প্রেমের ইতিহাস।

কোন মন্তব্য নেই
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷