সাদুল্লাপুরের ধাপেরহাটে যুবলীগ নেতা পলাশ আটক
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাটে ২৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশকে মারপিট ও লাঞ্চিত করার অভিযোগে রাব্বী শাহান পলাশ (৩৪) নামে এক যুবলীগ নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। এঘটনায় স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মী ক্ষুব্ধ হয়ে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ঘেরাও এর চেষ্টা ও যুবলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তিন রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। এসময় পালিত বাবা চাঁন মিয়া (৫০) কে আটক করা হয় বলে জানা যায়। আটক রাব্বী শাহান পলাশ ধাপেরহাট ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পালানপাড়া গ্রামের চাঁন মিয়ার পালিত ছেলে।
ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক নওয়াবুর রহমান জানান, ধাপেরহাট বন্দর এর পাশে পালানপাড়ায় মাস্টার হাউস নামে এক বাড়ীতে ভাড়া থাকতেন সহিদ সরকার ও মামুনি আকতার নামে এক ব্যবসায়ী দম্পত্তি। সম্প্রতি তাদের মধ্যে পারিবারিক দন্দ্ব সৃষ্টি হয়। একারনে ২৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় কিছু যুবকের সহায়তায় মামুনি আকতার বাড়ীর আসবাবপত্র নিয়ে পিতার বাড়ী যাওয়ার উদ্যোগ নেয়। বিষয়টি নিয়ে সহিদ সরকার পুলিশকে লিখিত অভিযোগ করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে যুবলীগ নেতা রাব্বী শাহান পলাশ তাদের উপর চড়াও হয় এবং তাদের মধ্যে বাকবিতান্ডা শুরু হয়। এ সময় পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আজিজুর রহমান ঘটনাটি মোবাইলফোনে ভিডিও করতে শুরু করলে যুবলীগ নেতা পলাশ তার মুঠোফোনটি কেড়ে নেন এবং তাকে থাপ্পর মারেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে (ইনচার্জ পরিদর্শক নওয়াবুর রহমান) কে লাঞ্ছিত ও ধাক্কা মারেন। পুলিশকে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হলে তখন তাকে আটক করে তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি আরও জানান, আটকের বিষয়টি জানতে পেরে দলীয় নেতাকর্মীরা তদন্ত কেন্দ্র ঘেরাও করার চেষ্টা করলে পুলিশ তিন রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।
৬নং ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নওশা মন্ডল জানান, প্রশাসনের কাজে বাঁধা সৃষ্টি করা হয়েছে যাহা ঠিক করেনি এ যুবলীগ নেতা।
তবে যুবলীগ নেতা রাব্বী শাহান পলাশ জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হলে তিনি তাদেরকে জানান এটি একটি পারিবারিক বিষয়। আমরা স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মিমাংশা করার চেষ্টা করছি। আপনারা চলে যান। কিন্তু তারপরও মোবাইল ফোনে পুলিশ ভিডিও করার চেষ্টা করলে তাদেরকে নিষেধ করেন। কিন্তু এতে পুলিশ উত্তেজিত হয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। এদিকে, আটকের ঘটনায় বিকালে পলাশের মুক্তি ও ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এর অপসারণের দাবিতে যুবলীগ নেতাকর্মীরা ধাপেরহাটে একটি বিক্ষোভ মিছিল করে।
সাদুল্লাপুর থানার ওসি মাসুদ রানা জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশকে মারপিট ও সরকারী কাজে বাধা প্রদান করার অভিযোগে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।



কোন মন্তব্য নেই
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷