সাদুল্লাপুর থানার ওসিকে লালমনিরহাটে বদলি
গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর বিতর্কিত থানার ভরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরশেদুল হককে সাদুল্লাপুর থানায় যোগদানের ৯ মাস পরেই বদলি করা হয়েছে।
তাকে লালমনিরহাট জেলা পুলিশ লাইনে যোগদানের নির্দেশ দেয় পুলিশ প্রশাসন। বদলি হলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধা পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান তার বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কোন শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নয়, প্রশাসনিকভাবে তাকে স্বাভাবিক বদলি করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৮ আগস্ট ইয়াবাসহ আটক বজলুর রশিদ (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে ‘উৎকোচ’ নিয়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ ওঠে ওসির বিরুদ্ধে।
এ নিয়ে গত ১৯ আগস্ট অনলাইন তরঙ্গ নিউজে 'ইয়াবাসহ আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়।
সাদুল্যাপুরের আলোচিত চিহৃত বজলুর রশিদকে ইয়াবাসহ আটকের বিষয়টি তাৎক্ষণিক এএসআই হেলাল সাংবাদিকের কাছে স্বীকার করলেও ওসি তা অস্বীকার করেন।
সংবাদটি প্রকাশের পর উর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ চেষ্টাসহ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ব্যাপক তোড়জোড় করেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাননি ওসি। সংবাদ প্রকাশের একদিন পরেই তাকে বদলির আদেশ দেয় পুলিশ প্রশাসন।
গেল বছরের ৪ নভেম্বর সাদুল্লাপুর থানায় ওসি হিসেব যোগ দেন আরশেদুল হক। এরআগে সদর থানার (ওসি, তদন্ত) ছিলেন তিনি।
এছাড়া তিনি যোগদানের পর পরেই সাদুল্লাপুর শহর এলাকার এক কলেজ ছাত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের একটি ঘটনা ফাঁস হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রী বিচার চেয়ে ঘটনাটি উর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাকে অবগত করে।
এ বিষয়ে মামলা ও সংবাদ সম্মেলন করতে চাইলে নির্যাতনের শিকার ছাত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি মীমাংসা করতে চাপ সৃষ্টি করেন ওসি।
পরে সাড়ে ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়া হয়।
সদর থানায় ওসি, তদন্ত থাকা সময়ে কলেজ ছাত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি।


কোন মন্তব্য নেই
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷