অদক্ষ কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ৬ বিঘা জমির ধানে সাদা শীষে চিটা
গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি ফারাজীপাড়া গ্রামে কর্মরত অদক্ষ উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে চাষ করে সাংবাদিক মো: রুপম মিয়ার চলতি ইরি মৌসুমে ২ একর জমিতে সাদা শীষ বের হয়েছে। প্রতিটি ধানের সাদা শীষের ধান চিটা/পাতান হয়েছে। গাইবান্ধা সদরের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা পরিদর্শন করেন।
এ ব্যাপারে কৃষি কর্মকর্তাসহ জড়িত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
সরেজমিনে জানা যায়, গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের ফারাজীপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের পুত্র হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল(বাংলাদেশ) এর গাইবান্ধা জেলা কমিটির সভাপতি , বাংলাদেশ তৃণমূল সাংবাদিক কল্যাণ সোসাইটি, গাইবান্ধা জেলা কমিটির সভাপতি ও দৈনিক বাংলাদেশ সমাচারের স্টাফ রিপোর্টার এবং সমঝোতা নারী উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি মো: রুপম মিয়া ২ একর জমিতে বি আর ২৮ (ভিত্তি) ধান বীজ বিএডিসি হতে সংগ্রহ করে রোপন করেন। হালচাষের সময় থেকেই উক্ত ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোরশেদুন্নাহারের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে ফসলের পরিচর্যা করেন। কিন্তু ধান গাছ অনেক ভালো হলেও ধান বের হওয়ার সময় সব শীষ সাদা হয়ে বের হয়েছে এবং যতই দিন যাচ্ছে উক্ত ধানের শীষের প্রতিটি ধানই চিটা হয়েছে। এ কারণে তার কমপক্ষে ২ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে।
এ ব্যাপারে গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে গেলে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ও সাংবাদিক মানবাধিকার কর্মী মো: রুপম মিয়া অশ্র“সিক্ত নয়নে বলেন, আমি দীর্ঘ ২৫ বছর থেকে নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চাষাবাদ করে আসছিলাম। কিন্তু কোন সময়েই এ ধরণের ক্ষতি হয়নি। কিন্তু এ বছর অধিক ফলনের আশায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোরশেদুন্নাহারের পরামর্শে আবাদ করে এত বড় ক্ষতি হলো। আমি ফসলের ক্ষতি পূরণ চেয়ে মামলা করবো। ইতোমধ্যে আইনজীবির সাথেও মামলার বিষয়ে কথা বলেছি।
উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোরশেদুন্নাহার জানান, যথা সময়েই কৃষি উপকরণ সার কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, আমি ধানের জমির এই সমস্যা কেন হলো তা বুঝতে পারছি না। গাইবান্ধা সদরের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন গতকাল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, এই জমির ধানে ব্লাষ্ট রোগ হয়েছে। তিনি জানান, আমরা বিআর ২৮(ভিত্তি) ধানের আবাদ করার জন্য কৃষকদেরকে নিরুৎসায়িত করে থাকি। কিন্তু বিএডিসি বিআর ২৮(ভিত্তি) ধানের বীজ বিক্রি করছে কেন- এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হন।
গাইবান্ধা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল ইমরানকে গতকাল বেলা ৩ টা ১৭ মিনিটে সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ০১৭১১-০১৯৪০৬ এ বেশ কয়েকদফা মোবাইল করা হলেও তিনি রহস্যজনক কারণে মোবাইল রিসিভ করেননি।


কোন মন্তব্য নেই
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷