গাইবান্ধা জুড়ে মরণযান কাঁকড়ার দৈড়ান্ত বাড়ায় জনজীবন শঙ্কায়
গাইবান্ধা জেলা জুড়ে মরণযান কাঁকড়ার দৈড়ান্ত বাড়ায় জনজীবন শঙ্কায় পড়েছে। দানবের মতো ভয়ঙ্কর শব্দ করে গাইবান্ধা জেলার গ্রাম-শহর দাঁপিয়ে বেড়ায় অদ্ভুত পরিবহণ ‘কাঁকড়া’। এই কাঁকড়ার ভয়ঙ্কর শব্দ শুনলেই অনেক দূরের মানুষও আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন। সামনে ইঞ্জিন, পেছনে বডি আর বড় বড় চাকা দেখলেই মনে হয় যমদূত তেড়ে আসছে। জেলা শহরসহ সবকয়টি উপজেলার অবৈধভাবে যত্রতত্র গড়ে উঠা ইটভাটা গুলোর মাটি, ইট,কয়লা আনা নেওয়ার কাজ করা হয়। বসতবাড়ী নির্মাণে মাটি বালু,অন্যান্য সামগ্রী পরিবহনে এর জুড়ি নেই। অদক্ষ চালকের বেপরোয়া চলাচল জনজীবন সহ গবাদীপশু নিযে শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। গ্রাম গঞ্জের রাস্তা পেড়িয়ে জেলা ও উপজেলার সড়ক ও মহাসড়কে চলাচল করছে।
এসব কাঁকড়ার ইঞ্জিনসহ সামনের অংশটি মূলত জমি চাষ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। যার নাম পাওয়ার টিলার। পাওয়ার টিলারের পেছনে একটি বডি যুক্ত করে মালবাহী পরিবহণ তৈরি করা হয়েছে। অদ্ভূত এই পরিবহনটি গাইবান্ধার মানুষের কাছে কাঁকড়া নামেই পরিচিত। খুব দ্রুত চলাচল করায় প্রায়ই এই যানবাহনটির নিচে গবাদি পশু ও মানুষ চাপা পড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছেই। এই যানবাহনগুলোর চালকদেরও কোনো প্রশিক্ষণ নেই। অল্প বয়সী ছেলেদের দিয়ে এই যানবাহনগুলো চালানো হয়।
কোনো প্রকার ফিটনেস বা অনুমোদনহীন এই যানবাহনটি বেপরোয়া চলাচল করে থাকে।
সচেতন মহলের দাবি, বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করেই অবৈধ এই পরিবহনটি চলাচল করছে। যার ফলে একের পর এক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটলেও কারো টনক নড়ছে না। এমনকি একাধিকবার জেলা আইন-শৃঙ্খলা মিটিংয়ে আলোচনার পরও উল্লে¬খযোগ্য কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। মরণযান কাঁকড়া নামের এই পরিবহনটি প্রথমদিকে মূলত মাটি ও বালু পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হতো। এখন ইটভাটাগুলোর ইট, কয়লা, ধান-চালের বস্তাসহ, কাঠ বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করছে।
ভূক্তভোগীরা বলেন, এই অদ্ভুত যানবাহনের চলাচলের কারণে গ্রামগঞ্জের রাস্তাঘাট ধসে গিয়ে একেবারে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সংস্কার করা হলেও কাঁকড়ার অবাধ চলাচলের কারণে লাখ লাখ টাকা খরচ করেও রাস্তাগুলো ঠিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
এ মরণযান গুলো গ্রামাঞ্চল ছাড়াও গাইবান্ধা শহরের ডেভিডকোম্পানী পাড়া, সরকার পাড়া, ভি-এইড রোড, গাইবান্ধা-বালাসিঘাট সড়ক, গাইবান্ধা-পলাশবাড়ি সড়ক, স্টেডিয়াম সংলগ্ন সড়ক,সুন্দরগঞ্জমূখী ব্রীজ রোড, গাইবান্ধা-সাদুল্যাপুর সড়ক এবং গাইবান্ধা-কলেজ রোড-নাকাইহাট সড়ক, গোবিন্দগঞ্জ হতে মহিমাগঞ্জ,ঘোড়াঘাট সড়ক বাদেও উপজেলার বিভিন্ন সড়ক পেড়িয়ে মহাসড়কেও দিন দিন কাঁকড়ার দখলে চলে যাচ্ছে। পলাশবাড়ী উপজেলায় বিভিন্ন সড়ক পেড়িয়ে মহাসড়ক গুলোতে চলছে অবাধে।
গ্রাম ও গঞ্জের চলাচলের রাস্তা গুলোর বেহাল অবস্থার জন্য দায়ী এসব মরণযান কাঁকড়া। এখনি এর দৈড়ান্ত থামানো না গেলে ভবিষ্যৎ এর দৈড়ান্ত আরো বাড়বে।


কোন মন্তব্য নেই
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷