সাঘাটায় ধর্ষণের অপবাদ সইতে না পেরে নবম শ্রেনীর ছাত্রী আত্মহত্যা
গাইবান্ধা জেলার সাঘাটায় ধর্ষণের অপবাদ সইতে না পেরে সোহাগী (১৫) নামে এক স্কুল ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শনিবার উপজেলার গজারিয়া গ্রামে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কামালেরপাড়া ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের আব্দুল লতিফের কন্যা কামালেরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী সোহাগী আক্তার শুক্রবার রাতে শয়ন ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে। মধ্যরাতে একই গ্রামের শিক্ষক মোস্তাক আহম্মেদ মোস্তার পুত্র কলেজ পড়ুয়া ছাত্র ফরিদ আহম্মেদ কিশোরীর শয়ন ঘরে প্রবেশ করে এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।
এক পর্যায়ে মেয়েটির চিৎকার শুনে তার মা কল্পনা বেগম টের পেয়ে ছুটে এলে ধর্ষক তার মোবাইল ফোন ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ওই রাতেই ধর্ষকের অভিভাবকের কাছে বিষয়টি জানালে শনিবার সকালে বিচারের আশ্বাস দিয়ে সোহাগীর পরিবারকে বাড়ীতে ফেরত পাঠায়। কিন্তু বিচারের নামে কালক্ষেপন ও ইজ্জ্বতের মূল্য ৩ লাখ টাকা স্থানীয় মাতবররা ঠিক করে। বিষয়টি জানাজানি হলে সোহাগী আক্তার অপবাদ সইতে না পেরে লোকলজ্জার ভয়ে শয়ন ঘরের ধর্ণার সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।
সরেজমিনে গেলে, ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে প্রতিবেশী মাহবুবুর রহমান ও রাশিকুল ইসলাম বলেন এ ধরণের ঘটনায় ধর্ষকের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি না হলে সমাজে এ ধরণের কর্মকান্ড বেড়ে যাবে।
এ বিষয়ে কামালেরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহিনুর ইসলাম সাজু সাংবাদিকদের জানান, আমি শুনেছি, তবে বিষয়টি মিমাংসা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাঘাটা থানায় একটি ইউটি মামলা দায়ের করা হয়। বোনারপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই শহিদুল ইসলাম শহীদ সাংবাদিকদের জানান, গত শনিবার রাতে লাশ উদ্ধার করে গাইবান্ধা মর্গে প্রেরণ করা হয়।


কোন মন্তব্য নেই
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷