https://www.effectivegatecpm.com/rn8qbtaqk?key=a6bb032d522890bffe519fa4928f6d14 ইসলাম শান্তির ধর্ম - Gaibandha Online Portal

Breaking News

ইসলাম শান্তির ধর্ম

ইসলাম পরিপূর্ণ জীবনবিধান। ইসলামের উদ্দেশ্য হলো দুনিয়াতে শান্তি ও পরকালে মুক্তি। তাই ইসলামের বিধান জীবনব্যাপী। সুখ-দুঃখ জীবনেরই অংশ। সুখী জীবনের জন্য চাই আনন্দ ও বিনোদন। নীরস-নিরানন্দ জীবন হতাশা তৈরি করে। হতাশাই জীবনের ব্যর্থতার কারণ। আনন্দ মানে হাসি, পুলক, সুখ, তৃপ্তি, সন্তোষ, পরিতোষ, স্ফূর্তি, আহ্লাদ। বিনোদন মানে আমোদিতকরণ, তুষ্টিসাধন। এর মূল ধাতু হলো বিনোদ; যার অর্থ হলো তোষণ, সন্তুষ্টি বিধান, আমোদ, আনন্দ, বিহার, মনোহর, মনোরম, সুন্দর। সহজ করে বললে বলতে হয়, বিনোদন হলো আনন্দের মাধ্যম বা উপকরণ। মানসিক প্রশান্তির জন্য যা করা হয়, তা-ই বিনোদন।
মানবজীবনের প্রথম সমস্যা হলো নিঃসঙ্গতা। হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করে যখন জান্নাতে রাখা হলো, তখন তিনি একাকিত্ব বা নিঃসঙ্গতার সমস্যায় পড়েন। তাঁর এই সমস্যা সমাধানে আল্লাহ তাআলা হজরত হাওয়া (আ.)-কে সৃষ্টি করেন। শুরু হয় মানবসভ্যতার যৌথ পথচলা। মানুষ সামাজিক জীব, তাই সে নিঃসঙ্গ বা একাকী জীবন ধারণ করতে পারে না।
নিষ্পাপ আনন্দ ও বৈধ বিনোদন সুন্নত। বিনোদনের উপায়-উপকরণগুলোর প্রায় সব কটিই প্রিয় নবীজি (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম প্রয়োগ ও উপভোগ করেছেন। যেমন গল্প, কৌতুক, হাস্যরস, খেলাধুলা, কবিতা আবৃত্তি, পদ্য প্রণয়ন, গদ্যপাঠ, সাহিত্যরচনা, সংগীত ইত্যাদি।
আমাদের প্রিয় রাসুল (সা.) কুস্তি লড়েছেন। তৎকালীন আরবের সর্বশ্রেষ্ঠ বীরকে তিনি তিন-তিনবার হারিয়েছেন। মদিনায় যুবকদের শারীরিক কসরত তিনি পর্যবেক্ষণ করতেন। হজরত আয়েশাও (রা.) ঘরে বসে তা উপভোগ করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বিবি আয়েশা (রা.)-এর সঙ্গে একাধিকবার দৌড় প্রতিযোগিতা করেছেন।
শৈশবে নবীজি (সা.) খেলাধুলায় নেতৃত্ব দিতেন। কৈশোরে হুজুরে পাক (সা.) প্রকৃতির সৌন্দর্য অবলোকন করতেন। তরুণ বয়সে তিনি তরুণ সংঘ গড়ে তোলেন। যুবক বয়সে তিনি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেন। রাসুলুল্লাহ (স.)-এর রচিত কবিতা বুখারি শরিফসহ সিহাহ সিত্তাহ ও অন্যান্য হাদিসগ্রন্থে উল্লেখ আছে। যেমন ‘আনা নাবিউন লা কাযিব, আনা ইবনু আবদিল মুত্তালিব।’ অর্থ: আমি নবী মিথ্যা নই, আমি আবদুল মুত্তালিবের পুত্র হই। (সিরাতে ইবনে হিশাম)।
নবীজি (সা.) কাব্য পছন্দ করতেন। হজরত হাসসান ইবনে সাবিত (রা.) ভালো কবিতা রচনা করতেন এবং চমৎকার আবৃত্তি করতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর জন্য মদিনা শরিফে মসজিদে নববিতে আরেকটি মিম্বর বানিয়ে দিলেন, যেখান থেকে তিনি তাঁর কাব্য উপস্থাপন করতেন। প্রিয় নবীজি (সা.) কাব্যপ্রেমী ও ভালো শ্রোতাও ছিলেন। তিনি হজরত হাসসান (রা.)-এর কবিতায় মুগ্ধ হয়ে নিজের গায়ের উত্তরীয় তাঁকে উপহার দিয়েছিলেন। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)।


কোন মন্তব্য নেই

মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷