https://www.effectivegatecpm.com/rn8qbtaqk?key=a6bb032d522890bffe519fa4928f6d14 জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানসহ সাত প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের - Gaibandha Online Portal

Breaking News

জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানসহ সাত প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

 নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলটির সাতজন প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে গাজীপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মজিবুর রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পৃথক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানসহ সাত প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের ভোটগ্রহণ পর্যন্ত সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পৃথক চিঠি পাঠিয়েছে ইসি। কমিশনের এই উদ্যোগকে আসন্ন নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


যাদের জন্য নিরাপত্তার নির্দেশ

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে যেসব প্রার্থীর নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছিল, তারা হলেন—

  • জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান

  • নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের

  • মুজিবুর রহমান

  • এটিএম আজহারুল ইসলাম

  • সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার

  • সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ

  • রফিকুল ইসলাম খান

এ ছাড়া পৃথক আবেদনের প্রেক্ষিতে গাজীপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মজিবুর রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


ইসির ব্যাখ্যা

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদ এ বিষয়ে বলেন,

“জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আবেদন পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি ফরোয়ার্ড করতে বলা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, কমিশনের দায়িত্ব হলো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ রাখা। সে লক্ষ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।


আবেদনের সময়সূচি

জানা গেছে, গত ১০ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দলটির সাত প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন করা হয়। পরদিনই ওই আবেদনে সম্মতি দিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়।

নির্বাচন কমিশনের একাধিক সূত্র বলছে, আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে নির্বাচনী প্রচারণা কিংবা ভোটগ্রহণকালে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।


সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার

এদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, শুধু নির্দিষ্ট কয়েকজন প্রার্থী নয়—নির্বাচনী প্রচারণা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সারাদেশে সব প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি জেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কমিশনের নির্দেশনায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে।


নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে বিশ্লেষকদের মত

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল সময়ে প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব। বিশেষ করে বড় রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে নির্বাচনী প্রচারণা তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ হয়।

একজন বিশ্লেষক বলেন,

“নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে শুধু একজন প্রার্থীকে রক্ষা করা নয়, বরং ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি করা। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”


কমিশনের বার্তা

নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে, কোনো দল বা প্রার্থীর সঙ্গে বৈষম্য করা হবে না। নিরাপত্তা সংক্রান্ত আবেদন পেলে ঝুঁকি ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে কমিশন।


শেষ কথা

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানসহ সাত প্রার্থী এবং বিএনপির প্রার্থী মজিবুর রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের সক্রিয় ভূমিকারই প্রতিফলন। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ সুগম করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

এখন নজর থাকবে—মাঠপর্যায়ে এই নির্দেশনা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং নির্বাচন কতটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, সেদিকে।

কোন মন্তব্য নেই

মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷