টাঙ্গাইলে এনসিপি ও এগারো দলীয় ঐক্য জোটের পথসভা, সংস্কার ও ‘হ্যাঁ ভোট’ নিয়ে বক্তব্য
সংস্কারের প্রশ্নে দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর একটি দলের প্রধান হ্যাঁ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, নেতা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে কথা বললেও কর্মীরা যদি না ভোট চায়, সেটিও এক ধরনের গুপ্ত কাজ। এইভাবে না ভোট চাওয়াও গুপ্ত তৎপরতার শামিল।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, সাইফুল্লাহ হায়দারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিন কোটি ৪০ লাখ টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই বরাদ্দ বিভিন্ন রাস্তাঘাট উন্নয়নে ব্যয় করা হয়েছে। তাকে নির্বাচিত করা হলে এলাকার উন্নয়নে তিনি আরও বেশি কাজ করতে পারবেন বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহ, শাপলা চত্বর ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদ হত্যার বিচার করা হবে ইনশাআল্লাহ। সরকার গঠন করা হলে ‘হিসাব দাও’ নামে একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়-ব্যয়ের হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে। উপদেষ্টা পদ থেকে বিদায়ের সময় সরকারি একটি বাড়ি, একটি খাট ও অন্যান্য সামগ্রী ফেরত দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
ভারতের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ তিন দিক থেকে একটি দেশ দ্বারা ঘেরা। ভালো প্রতিবেশীসুলভ আচরণ প্রত্যাশা করলেও আমাদের ছোট প্রতিবেশী হিসেবে দেখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এগারো দলীয় ঐক্য জোট সরকার গঠন করলে যুবকদের সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে এবং সামরিক বাহিনীর অধীনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য সংখ্যা দ্বিগুণ করা হবে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংস্কারে শহীদ জিয়ার অবদান রয়েছে। তবে জীবনের একটি ভুল ছিল বাকশাল গঠনের পর শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা। এর ফলেই বেগম খালেদা জিয়াসহ দেশের মানুষ নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা হলে জনগণ আবার নির্যাতনের শিকার হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
তারেক রহমানের কৃষক ঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০১ সালেও কৃষকদের ঋণ মওকুফের কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। ২৫ বছরেও যখন ঋণ মওকুফ হয়নি, এবার বললে জনগণকে প্রশ্ন করতে হবে—কবে তা কার্যকর হবে?
টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এগারো দলীয় ঐক্য জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সাইফুল্লাহ হায়দার বলেন, তার কোনো নেতাকর্মী বা আত্মীয় চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকলে তিনি একটি ভোটও চাইবেন না। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ মাসে একটি দলের নেতাকর্মীরা ঘাটাইলের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজিতে জড়িয়েছে। আগামী আন্দোলন হবে চাঁদাবাজি, ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে।
তিনি বলেন, পাহাড় কেটে অপরিকল্পিত শিল্পকারখানা স্থাপনের বিরোধিতা করা হবে। পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের মাধ্যমে উন্নয়ন করা হবে। পাহাড় এলাকায় ২৫ শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণ, প্রতিটি ওয়ার্ডে দুর্নীতির অভিযোগ বাক্স স্থাপন এবং এমপি নির্বাচিত হলে বেতনের বাইরে কোনো অর্থ গ্রহণ না করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম বলেন, ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা হলে এগারো দলীয় ঐক্য জোট সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তিনি বলেন, ধর্মীয় ভাবমূর্তি ব্যবহার করে ভোটকেন্দ্র দখলের রাজনীতি নতুন নয়।
এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর একটি দল চাঁদাবাজি ও দখলবাজিতে জড়িয়ে পড়েছে। এসবের বিরুদ্ধে লড়তেই এগারো দলীয় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোট গঠন করা হয়েছে। ৯৯৯ নম্বরের মাধ্যমে দেশব্যাপী চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো যাবে বলেও জানান তিনি।
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন, টাঙ্গাইল জেলা এনসিপির আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাবলু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নেতা মুফতি মাশরুর আহমেদ, টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ হোসনে মোবারক বাবুলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

কোন মন্তব্য নেই
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷