বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন কোন লেভেলে আছে। সেইটা বিশ্লেষণ করার জন্য গত ম্যাচটি পারফেক্ট।
প্রথমে দুইটা কথা বলে রাখি ,এক এই বাংলাদেশ দলকে নিয়ে গর্ব করা যায়।
দুই এখন পর্যন্ত এটাই বাংলাদেশের সেরা বিশ্বকাপ। ২০১৫ তে কোয়ার্টারে গেলেও আমার মতে ব্যাটিং লেভেল এবারই বেস্ট হচ্ছে।
গতকিছুদিন আগে আমি বলেছিলাম নিজেদের দিনে বাংলাদেশ যে কাউকে হারাতে পারলেও ক্রিকেটিয় ধারাবাহিকতার দিক দিয়ে বাংলাদেশ এখনো ইন্ডিয়া, ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার থেকে ৫ বছর পিছিয়ে আছে। বছর কে যদি রানে কনভার্ট করি তাহলে ৩০-৫০ রান পিছিয়ে আছে। বছর কে যদি প্লেয়ারে কনভার্ট করি তাহলে বাংলাদেশ ৬-৭ নাম্বারে ম্যাক্সওয়েল, হার্দিক পান্ডেয়া, বেন স্টোকসের মত একজন হার্ড হিটার , চাহাল ,কুলদিপের মত একজন রিস্ট স্পিনার আর ফিল্ডিং+ ফিটনেসের দিক থেকে পিছিয়ে আছে। ব্যাস এইটাই।
অজিরা এমন কোন আহামরি ক্রিকেট খেলেনি। ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে অজিদের রেসপন্স আরো খারাপ ছিলো।
আমাদের এই বিশ্বকাপের আফসোস থাকবে, নিউজিল্যান্ড ,শ্রীলংকা ম্যাচ। যাক এইটা নিয়ে কথা বাড়াতে চাইনা।এবার আসি ফিল্ডিং নিয়ে। সাব্বিরের ড্রপ ক্যাচ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। হওয়াও উচিত। রুবেলের বোলিং নিয়ে হতে পারে ,সাইফুদ্দিন থাকলে কি হত এসব নিয়ে আলোচনা হতে পারে। টু বি ফেয়ার যত আলোচনাই করেন বাংলাদেশ আজকে সামর্থ্যের ১০০% দিয়ে খেলছে। সমস্যা হলো অজিরা এক লেভেল উপরে খেলছে। আমি লিখে দিতে পারি অজিরা বাংলাদেশ সফরে আসুক। মিরপুরের স্লো লো পিচে খেলুক। গো হারা হারবে বাংলাদেশের কাছে। দল হিসেবে তারা আমাদের চাইতে এগিয়ে শুধুমাত্র ওয়ার্নার ,ম্যাক্সওয়েল এবং তাদের ফিল্ডিং এর দিক দিয়ে। আর কিছুনা।
সেমিফাইনাল আমাদের জন্য এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে। কিন্তু সাকিব মুশফিক রিয়াদ রা এবারের বিশ্বকাপে আমাদের যেই এবিলিটি দিয়েছে যেটা আমাদের আগে ছিলনা। সেইটা হলো , ৩০০-৩৫০ চেজ করার এবিলিটি।
ঠান্ডা মাথায় ভাবেন। গত ১০ বছরে অস্ট্রেলিয়া আমাদের কে তাদের দেশে খেলতে আমন্ত্রন জানায় নাই। ইন্ডিয়া অনেক কষ্টে এক টা টেস্ট খেলেছে। নাক উচু ব্রিটিশরা তো খেলতেই রাজিনা আমাদের সাথে হোম সিরিজ। এত উপেক্ষা ,এত অবহেলা ,এত অন্যায়ের পর বাংলাদেশ দল ইংল্যান্ডের মত জায়গায় ৩০০+ চেজ করার এবিলিটি দেখায় ,অজিদেরকে টেনশনে রাখে ,বড় দল গুলোকে ভাবায় আমাদের ক্রিকেট কি আগায় নি? অবশ্যই এগিয়েছে। রাইট নাউ বাংলাদেশ এশিয়ার দুই নাম্বার ওয়ানডে দল এবং বিশ্বে ৫ নাম্বার। সাম্প্রতিক ফর্ম বিচারে। ওসব আইসিসি রেংকিং মেংকিং ছাড়েন। সাউথ আফ্রিকা নো ওয়ে নিয়ার টু আস। নিউজিল্যান্ড কাছাকাছি।
টাইগারদের এই দলটা বাংলাদেশ ক্রিকেট কে ৩৫০ পর্যন্ত এগিয়ে দিয়েছে। এখন ৪০০ পর্যন্ত আগানোর দায়িত্ব সৌম্য ,লিটন ,সাব্বিরদের জেনারেশনের। ঠিক যেমন সেওয়াগ ,যুবরাজরা ইন্ডিয়াকে ৩০০+ চেজ করা শিখিয়েছিলো। এরপর কোহলিদের জেনারেশন এখন ৩৫০+ চেজ করে। এভাবেই ক্রিকেটের অগ্রগতি হয়।
আমাদের আংগুল টা এবার আমাদের প্লেয়ারদের দিক থেকে ঘুরিয়ে বিসিবির দিকে নেয়া উচিত। পাইপলাইনে মেধার সংকট কেন?
দেশের ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটের অবস্থা কি?
১৪০+ পেস বোলার কেন উঠে আসছে না?
আন্ডার নাইনটিনে ,আন্ডার সিক্সটিনে কোন লেগ স্পিনার কোন ম্যাজিক বোলার কেন পাইনা আমরা?
সমস্যাটা কি?
মূলে যান। এসব উত্তর বিশ্বকাপের পরেই দেয়া উচিত।
সাকিব ,ম্যাশদের জেনারেশন তো অনেক দিলো।
পরের জেনারেশনের খবর কি? আই পি এল থেকে ইন্ডিয়া পান্ডেয়া , কুলদীপদের পায় আমরা বিপিএল থেকে আজ পর্যন্ত একজন ইয়াং স্টার পেলাম না কেন?
সাব্বিরের ক্যাচ নিয়া গবেষণা না কইরা এসব নিয়া গবেষণা করেন। যদি ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন হইতে চান। মিনহোয়াইল টাইগাররা আমাদের বার বার গর্বিত করেছে। এখনো করছে।ওই যে মুশির সেঞ্চুরির পর অজি ক্যাপ্টেন ফিঞ্চ হ্যান্ডশেক করল না এটাই প্রমাণ করে ম্যাচ হারলেও ক্রিকেটে হারিনি ,মনোবলে হারিনি, স্বপ্ন দেখাতে হারিনি। সম্মান আদায় করে ছেড়েছি।
(Collected).
.


কোন মন্তব্য নেই
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷