https://www.effectivegatecpm.com/rn8qbtaqk?key=a6bb032d522890bffe519fa4928f6d14 পুলিশের এ.এস.আইয়ের বাড়ীতে রহস্যজনক ডাকাতি - Gaibandha Online Portal

Breaking News

পুলিশের এ.এস.আইয়ের বাড়ীতে রহস্যজনক ডাকাতি

গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলা শহরের জয়েনপুর গ্রামে পুলিশের এ.এস.আই শাহারুল ইসলামের বাড়ীতে সোমবার রাতে রহস্যজনক ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ জাহিদুল ইসলাম নামের একজনকে আটক করেছে। আর্থিক লেনদেন নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে দ্বন্দ চলছে শাহারুল ইসলামের। পুলিশের এ.এস.আই শাহারুল ইসলাম বর্তমানে রংপুর সিআইডিতে কর্মরত আছেন। ঘটনার সময় শাহারুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ঢাকায় অবস্থান করছিলেন বলে জনা গেছে।শাহারুল ইসলামের বড় ছেল দশম শ্রেণীর ছাত্র কাওসাইন হোসেন শাকিব জানায় বাবা-মা বাসায় না থাকায় সোমবার রাতে জ্যাটাতো ভাই একাদ্বশ শ্রেণীর ছাত্র শাহাদত হোসেন সজিবকে সঙ্গে নিয়ে ঘুমিয়ে পরেন। গভীর রাতে মানুষের শব্দে ঘুম ভাঙ্গে। ১২ থেকে ১৫ জন মানুষ তাদের বাসার ভিতরের তিন রুমে ঢোকেন। এই মানুষের মধ্যে কয়েক জনের মুখ বাঁধা ছিলো। তারা তাকে ও তার জ্যাটাতো ভাইকে বেঁধে রেখে ঘড়ের জিনিষপত্র তছনছ করে একটি ল্যাপটপ, মোটর সাইকেল, সিডি, দুটি মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। শাহারুল ইসলামের ভাতিজা শাহাদত হোসেন সজিব জানান মানুষগুলো তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখায়। তারা সবকিছু নিয়ে যাওয়ার পর হাত-পায়ের বাঁধন খুলে বাহিরে বের হয়ে প্রথমে তার বাবাকে (অবসর প্রাপ্ত সেনা সদস্য) জানান। এর পর আশপাশের প্রতিবেশিদের ডেকে তুলে বিষয়টি অবগত করান। শাহারুল ইসলামের নিকটতম প্রতিবেশি উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি প্রভাষক আব্দুল জলিল বলেন তাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে ওই বাড়ীতে ডাকাতি বিষয়টি জানানো হয়। পরে তিনি শাহারুল ইসলামের বাড়ীতে যান। এর মধ্যেই ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। এত বড় ঘটনা ঘটলেও তিনি চিৎকার চেচামেচির কোন শব্দ পাননি।সাদুল্যাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) ইমরানুল কবির জানান ঘটনার সংবাদ পেয়েই পুলিশ অভিযানে নামে। পরে শাহারুল ইসলামের সন্দেহ ভাজন জাহিদুল ইসলামকে তার বাড়ী থেকে ভোর সাড়ে চারটার দিকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত জাহিদুল ইসলাম জয়েনপুর গ্রামের শহর আলীর ছেলে।
স্থানীয় বনগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহীন সরকার বলেন শাহারুল ইসলামের সঙ্গে জাহিদুল ইসলামের আর্থিক লেনদেন নিয়ে দ্বন্দ ছিলো। প্রায় দেড় মাস আগে সেই দ্বন্দ আপোষ করে দিয়েছেন। পরে শাহারুল ইসলাম জমি বিক্রি করে জাহিদুল ইসলামের পাওনা টাকা পরিশোধ করেন। পুলিশের এ.এস.আই শাহারুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানান জাহিদুল ইসলাম তাকে হুমকি ধামকি দেওয়ায় কয়েক দিন আগে সাদুল্যাপুর থানায় জিডি করেছেন। সেই জিডি প্রসিকিউসন হয়ে আদালতে গড়িয়েছে। এর জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে জাহিদুল ইসলাম লোকজন নিয়ে তার বাড়ীতে এসব ঘটনা ঘটিয়েছে।
শাহারুল ইসলামের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য জাহিদুল ইসলাম জানান এটি ডাকাতি নয়। তবে পরিকল্পিত দুষ্টোমি। যারা এটি ঘটিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
থানার একটি সুত্র এবং প্রতিবেশিরা জানায় শাহারুল ইসলাম নিয়মিত জুয়ার আসরে যান। গেলো বৈশাখ মাস থেকে তিনি জুয়া খেলে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা ঋণ করেছেন। এনিয়ে প্রায় তার সঙ্গে পাওনাদারদের জামেলা হচ্ছে। এর আগে শাহারুল ইসলাম কয়েকজন প্রতিবেশি যুবকের নামে চাঁদাবাজীর মামলা দায়ের করেছিলেন।
আটককৃত জাহিদুল ইসলামের বাবা শহর আলী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা জানান আর্থিক লেনদেনের সুত্র ধরে জাহিদুল ইসলামকে সাজানো ঘটনায় ফাসানোর চেষ্টা করছে এ.এস.আই শাহারুল ইসলাম। এজন্য তারা পুলিশের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন। জাহিদুল ইসলামকে আটককের পর থেকেই এলাকার মানুষ তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য থানার গেটে এসে অবস্থান করেন।
সাদুল্যাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বোরহান উদ্দিন জানান শাহারুল ইসলাম ঋণ গ্রস্থ হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তবে শাহারুল ইসলামের বাড়ীর ঘটনা তদন্তের জন্য সিআইডসহ পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। এনিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।


কোন মন্তব্য নেই

মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷