https://www.effectivegatecpm.com/rn8qbtaqk?key=a6bb032d522890bffe519fa4928f6d14 ‘থার্টি ফোর’ বলেই খুন করত ভবঘুরে সম্রাট, সাভারে ছয় খুনের ভয়ংকর স্বীকারোক্তি - Gaibandha Online Portal

Breaking News

‘থার্টি ফোর’ বলেই খুন করত ভবঘুরে সম্রাট, সাভারে ছয় খুনের ভয়ংকর স্বীকারোক্তি

 সাভারে সংঘটিত ধারাবাহিক ছয় খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ভবঘুরে মশিউর রহমান সম্রাট (ছদ্মনাম) পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ভয়ংকর সব তথ্য প্রকাশ করেছে। খুনকে সে ‘থার্টি ফোর’ কিংবা ‘সানডে মানডে ক্লোজ’ নামে অভিহিত করত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

‘থার্টি ফোর’ বলেই খুন করত ভবঘুরে সম্রাট, সাভারে ছয় খুনের ভয়ংকর স্বীকারোক্তি
সাভার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন জানান, সম্রাট মানসিকভাবে পুরোপুরি পাগল নন। অতিরিক্ত নেশার কারণে তার আচরণে বিকারগ্রস্ততা দেখা দেয় এবং একপর্যায়ে মানুষ হত্যা তার নেশায় পরিণত হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডকে সে একটি ‘খেলা’ কিংবা ‘কোড ভাষা’ হিসেবে ব্যবহার করত।

হেলাল উদ্দিন বলেন, “মশিউর রহমান সম্রাট তার প্রকৃত নাম নয়। নিজের পরিচয় গোপন রাখতে সে ছদ্মনাম ব্যবহার করত। তার বাড়ি সাভারে নয়। অন্য কোথাও অপরাধ করে আত্মগোপনে সাভারে এসে ভবঘুরে জীবন বেছে নেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিগগিরই তার আসল পরিচয় জানা যাবে।”

পুলিশ জানায়, সাভারে অবস্থানকালে ওই সিরিয়াল কিলার বেশির ভাগ রাত কাটাত সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার মডেল মসজিদে। ২০২৫ সালের ৪ জুলাই আসমা বেগম নামের এক বৃদ্ধাকে হত্যার পর সে পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে আশ্রয় নেয়। এরপর থেকে ওই ভবনের নিচতলায় আস্তানা গেড়ে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটাতে থাকে।

গত পাঁচ মাসে ওই কমিউনিটি সেন্টার ভবন থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর সেখানে পুলিশের নিয়মিত নজরদারি শুরু হয়। সন্দেহের তালিকায় থাকলেও কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ না থাকায় সম্রাটকে তখন গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

হেলাল উদ্দিন আরও জানান, নজরদারির অংশ হিসেবে গত শুক্রবার রাতে কমিউনিটি সেন্টার পরিদর্শনে গিয়ে সম্রাটের বিছানায় এক কিশোরীকে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরী জানায়, সম্রাট তার ভাই এবং সে তিন দিন আগে সেখানে এসেছে। কিন্তু পরদিন শনিবার রাতে ওই কিশোরীসহ আরও একজনকে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলে সম্রাট।

রোববার দুপুরের পর পোড়া মরদেহ উদ্ধার হলে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় হত্যাকাণ্ডে সম্রাটের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়। পরে রোববার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সে ছয়টি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

পুলিশ জানায়, দিনের বেলায় সম্রাট থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করলেও গভীর রাতে তাকে দেখা যেত ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক ও পদচারী-সেতু এলাকায়। সেখানে রাত কাটানো ভবঘুরে নারী-পুরুষদের ফুসলিয়ে সে কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে আসত। যারা সেখানে যেত, তারাই হত্যার শিকার হতো।

সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, “খুনি ধরা পড়েছে এবং স্বীকারোক্তিও দিয়েছে। এখন নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। শুধু এই ছয় খুন নয়, সে আরও অপরাধে জড়িত থাকতে পারে। তদন্ত চলছে।”

পুলিশ আশা করছে, তদন্তের মাধ্যমে এই ভয়ংকর সিরিয়াল কিলারের সব অপরাধের পূর্ণ চিত্র শিগগিরই সামনে আসবে।


কোন মন্তব্য নেই

মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷