গাইবান্ধার কোরবানি হাটের সেরা-বৃহৎ গরু যুবরাজ
বিশাল আকৃতির গরু। কাছে দাঁড়াতে ভয় হবে যেকারও।বাড়ীতে পালনকৃত গাভী হতে চার বছর আগে জন্ম নেয়া হলিস্টিন ফ্রিজিয়ান জাতের ষাড়টির শরীর গাঢ় কালো রং, লম্বা শিং, উঁচু চুড়া, গলাকম্বল বেশ ঝুলানো। নাম দিয়েছেন যুবরাজ।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌর শহরের বাসিন্দা বাদল খন্দকার প্রথমবারের মতো ১ টন ওজনের কোরবানির গরু পালন করে পুরো এলাকায় হৈচৈ ফেলেছেন। তাদের অনুসরণ করে বৃহৎ গরু পালনে প্রতিযোগিতা করছেন এলাকার আরও অনেকেই।
কথায় কথায় বাদল বলেই ফেললেন, ‘আমার যুবরাজই গাইবান্ধার কোরবানীর হাটের সেরা বৃহৎ গরু।’
বর্তমানে প্রায় ২৭ মণের যুবরাজকে সাড়ে ১০ লাখ টাকায় বেঁচতে চান। ভ্যাপসা গরমে বিক্রির জন্যে হাটে নেয়া ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন মালিক। তাই একটু কমে হলেও বাড়ি থেকেই বেঁচতে আগ্রহী।
২০ জুলাই সোমবার বিকেলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়,পৌর শহরের বাদল খন্দকারের বাড়িতে যুবরাজ নামের ওই বিশাল গরু এক নজর দেখতে ভিড় করছে উৎসুক লোকজন।পাশে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে সেলফি তুলতে ব্যস্ত অনেকেই।গরুর ছবি ফেসবুকে ও অনলাইন হাটে ভাইরাল হয়ে উৎসুক জনতার ভিড় ক্রমেই বাড়ছে ওই বাড়িতে।
যুবরাজের দৈর্ঘ্য প্রায় ৭০ ইঞ্চি, উচ্চতা ৫ ফিট ৭ ইঞ্চি, ওজন প্রায় ২৭মণ। প্রায় ৪ বছর বয়সী যুবরাজের রয়েছে ব্যয়বহুল খাবারের তালিকা বেশ দীর্ঘ। এর মধ্যে ৩/৪কেজি গমের ভুষি, এক কেজি মালটা, ৫/৬টি কলা, ১/২কেজি গুর, ভুট্টা ভাঙ্গা, ছোলা ভাঙ্গা, মিষ্টি কুমড়া, লেবু, ধানের খড় এবং কাঁচা ঘাস। চিকিৎসকের পরামর্শে এসব খাবারে ব্যয় প্রতিদিন প্রায় ৪'শ থেকে৫'শ।
যুবরাজের থাকার ঘরটাও বেশ রাজকীয়। পাকা মেঝেতে ও গরম থেকে সুরক্ষার জন্য মাথার উপরে তিনটি সিলিং ফ্যান চলছে নিয়মিত। ২৪ ঘণ্টায় ২/৩বার গোসল করানো হয় যুবরাজকে। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করছেন বলে জানান মালিক।
ট্যাবলেটে বড় করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জাবাবে বদল বলেন, অবৈধ ওষুধ ব্যবহার করা হলে এই ভ্যাপসা গরমে যুবরাজকে বাঁচানো সম্ভব হতো না।সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে পালনকৃত গরুটি এবারের কোরবানি ঈদেই বিক্রি করতে আগ্রহী মালিক।

কোন মন্তব্য নেই
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷