https://www.effectivegatecpm.com/rn8qbtaqk?key=a6bb032d522890bffe519fa4928f6d14 গাইবান্ধা-৩ উপ-নির্বাচনে হারানো আসন ফিরে পেতে একযোগে কাজ করছে জাতীয় পার্টি - Gaibandha Online Portal

Breaking News

গাইবান্ধা-৩ উপ-নির্বাচনে হারানো আসন ফিরে পেতে একযোগে কাজ করছে জাতীয় পার্টি

জাতীয় পার্টির দূর্গ বলে পরিচিত গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্যাপুর) আসনে আগামী ২১ মার্চ উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। স্বাধীনতার পর মোট ৫০ বসরের মধ্যে ৩০ বসর এ আসনের ক্ষমতা ধরে রাখে জাতীয় পার্টি। এ আসনে মোট ৬ বার জাতীয় পার্টি ও মহাজোট হতে এমপি নির্বাচিত হয় ডঃ টি আইএম ফজলে রাব্বী চৌধুরী।
পল্লীবন্ধু এরশাদকে অত্র এলাকার সন্তান মনে করে ভোট দিয়ে এ আসটি জাতীয় পার্টি'কে বরাবরই উপহার দিয়ে এসেছে আসনের ভোটারগণ।
বাংলাদেশের মান উন্নত করতে সুপরিকল্পিত দুরদৃষ্টিসম্পন্ন চিন্তা চেতনায় রাস্তা, ঘাট, ব্রিজ, সেতু, প্রতিষ্ঠান,কৃষি গবেষণা, মানবসম্পদ, সকল বাহিনীকে সুসংগঠিত এবং বিশ্বের মাঝে বাংলাদেশের অবস্থান তৈরি করার জন্য কাজ করেন প্রয়াত সেনাপ্রধান ও প্রেসিডেন্ট এইচ এম এরশাদ। দরিদ্র দেশকে সুপরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষে সল্প বাজেটে দেশের অবকাঠামো গঠনে নজির সৃষ্টি করেন এ সময়ে। এরপর সময়ের সাথে তালমিলে রাজনৈতিক ও ক্ষমতার পালাবদল থাকলেও গাইবান্ধা-৩ আসনে মোট ৩০ বছর জাতীয় পার্টির হাতে এ আসনটি তুলে দিয়েছে এলাকার ভোটারগণ।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাপা মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার শিল্পী মহাজোটগত কারণে জাপা প্রেসিডেন্ট এইসএম এরশাদের নির্দেশে নির্বাচন হতে সরে দাঁড়ান। ফলে মহাজোট হতে এমপি নির্বাচিত হয় আওয়ামীলীগ প্রার্থী ডাঃ ইউনুস আলী সরকার। আওয়ামীলীগ হতে এমপি নির্বাচিত হওয়ায় জাপা ঘাটি গাইবান্ধা-৩ আসনটি নতুন করে জাপার নেতৃত্বের প্রয়োজন পরে। দলকে পূনঃগঠিত করার চেষ্টা থাকার পরও দলটিতে এলোমেলো লক্ষ্য করা যায়। সরকার ও সরকারের এমপি নির্বাচিত হওয়ায় আওয়ামীলীগ সুসংগঠিত হতে থাকে এ আসনে অপরদিকে জাপার নেতৃবৃন্দের অন্তদন্দের ফলে সকল কার্যক্রমে নীরবতা লক্ষ্য করা যায়।
একাদশ সংসদ নির্বাচনে মহাজোট না থাকায় আবারও জাপা প্রার্থী ব্যারীষ্টার দিলারা খন্দকার শিল্পী লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে নিকটতম প্রতিদ্বন্দী হয়। আওয়ামীলীগ থেকে পূনঃরায় নির্বাচিত হয় ডাক্তার ইউনুস আলী সরকার এমপি।
দশম ও একাদশ নির্বাচনের সময়কালে পলাশবাড়ী সাদুল্যাপুর এলাকায় জাতীয় পার্টি দলীয় কার্যক্রম দিলারা খন্দকার শিল্পী, শিল্পপতি সাচ্ছা ও এ্যাডঃ মমতাজ উদদীন বিভক্তির মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালায়। এর ফলে প্রকৃত এরশাদ সৈনিক অবহেলায় পড়ায় এরশাদ সমর্থক পরিষদ (স্থানীয় সংগঠন) করে জাতীয় পার্টির নাম ধরে রাখে এ্যাডঃ মমতাজ উদ্দীন। তিনি জাতীয় পার্টি হতে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করেন। তিনি আওয়ামীলীগ প্রার্থী নৌকা প্রতীকের নিকট এ নির্বাচনে হেরে যান।
একাদশ জাতীয় সংসদের পর আওয়ামীলীগ এমপি ডাক্তার ইউনুস আলী সরকার ২০১৯ সালে ২৭ ডিসেম্বরে মৃত্যু বরণ করায় এ আসনটি শূন্য হয়। ফলে উপ-নির্বাচনের তফসীল ঘোষনা করে নির্বাচন কমিশন। কালের পরিবর্তনে এ আসন হতে সরকার দলীয় নেতাকর্মী মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যাও ২৪ জনে বেড়েছে অপরদিকে জাতীয় পার্টি হতে মাত্র ৩ জন দলীয় মনোনয়ন চেয়েছে। এমতাবস্থায় জাতীয় পার্টি হতে মনোনীত হন প্রয়াত এমপি ও মন্ত্রী ডঃ টি আই এম ফজলে রাব্বীর ছেলে মইনুর রাব্বী চৌধুরী রোমান। অপরদিকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন পলাশবাড়ী উপজেলার কৃতিসন্তান বাংলাদেশ কৃষকলীগ সাধারণ সম্পাদক দশম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসন এমপি এ্যাডঃ উম্মে কুলসুম স্মৃতি। স্বাধীনতার ৫০ বসরের মাঝে এ আসনে ২য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি হতে নির্বাচিত হয় দুই বার। তবে বিগত নির্বাচনে জাতীয় পার্টির নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলো আওয়ামীলীগ।
ভালোবেসে একটি কথা প্রায়ই শোনা যায়, এরশাদ ও জাতীয় পাটি চিনিনা মুই খালী চিনো লাঙ্গল। এমন ভালোবাসায় জাতীয় পার্টির এ আসনটি ঘরে ফিরিয়ে নিতে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রয়াত এমপির ছেলেকে দলীয় মনোনয়ন পত্র প্রদান করেছে। প্রতিটি ঘরে জাতীয় পার্টির ভোট পরে আছে এবং তাদেরকে ভোটকেন্দ্রে এসে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট প্রদানের আহবান করছে জাপা প্রার্থী মইনুর রাব্বী চৌধুরী। দুই উপজেলা পলাশবাড়ী ও সাদুল্যাপুর নিয়ে এ আসনটি গঠিত এবং জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীর মাঝেও শুরু হয়েছে নতুন উদ্দাম। সময়ের সাথে ক্ষমতার পালাবদলের চিত্রে জাতীয় পার্টির দূর্গকে টিকে থাকার লড়াই করে যাচ্ছে নেতাকর্মীগণ। ঘরের সন্তান ঘরে ফিরিয়ে আনতে ভোটদানের বিকল্প নাই বলে নীরব জাতীয় পার্টির প্রধান শক্তি ভোটারদের প্রতি আহবান জানিয়েছে জাপা প্রার্থী।
এদিকে উন্নয়নের ধারাবাহীকতা বজায় রাখার জন্য চির প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টিকে হিসেব করেই সামনে এগিয়ে যাচ্ছে আওয়ামীলীগ ও মনোনীত প্রার্থী। এ উপ- নির্বাচন উল্লেখযোগ্য নির্বাচন হচ্ছে জাতীয় পার্টির জোরালো পদক্ষেপের কারণে এমন ধারণায় এ আসনের সচেতনমহল।
উল্লেখঃ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত এবং নির্বাচিত সংসদ সদস্য ডাঃ ইউনুস আলী সরকার ২০১৯ সালে ২৭ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করলে এ আসনটি শূন্য হয়। আগামী ২১ মার্চ শনিবার এ আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে। এ আসনের দুই উপজেলার মধ্য সাদুল্যাপুর উপজেলার ১১ ইউনিয়ন ও পলাশবাড়ী উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাসহ মেট ১৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ ৩১- গাইবান্ধা-৩ আসন। মোট ভোটার ৪ লক্ষ ১১ হাজার ৮৫৪ জন #
Image may contain: 4 people, people standing and outdoor

কোন মন্তব্য নেই

মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷