খুকিমাই বেওয়ার বোবা কান্না কি করও চোখে পড়ে না ?
৬৬ বছরের বাঁকপ্রতিবন্ধী (বোবা) খুকিমাই বেওয়া ভিক্ষাবৃত্তি করে মানবতায় দিন যাপন করছেন ভিক্ষা না করলে না খেয়ে কান্নায় হয় এক মাত্র ভরসা।
বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়লেও তার কপালে এখনও জোটেনি সরকারি বেসরকারী সহায়তা ভাতা কার্ড।
বুধবার সকালে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ছান্দিয়াপুর গ্রামে লাঠিতে ভর দিয়ে ভিক্ষা করছিলেন খুকিমাই বেওয়া। এসময় বোবা বাঁকপ্রতিবন্ধী খুকিমাই বেওয়া চোখের কান্না বুঝিয়ে দেয় খুকি বেওয়া কতটা অসহায়। ইশারা-ইঙ্গিত দিয়ে বুঝে দিল একটি ভাতা কার্ডে চান তিনি।
বয়স্ক ভাতার কার্ড কেন পাননি জানতে চাইলে খুকিমাই বেওয়ার ছেলে আব্দুস ছালাম বলেন, চেয়ারম্যান-মেম্বররা কেউ কিছু দেয় না। একটি ভাতা কার্ডের জন্য অনেকবার ঘুরাঘুরি করছি কিন্তু কোনো কাজ হয় নি। শুধু বয়স্ক ভাতার একটি কার্ডই নয় সরকারি সাহায্যের কিছুই পৌঁছায়নি তার ঘরে। এমন পরিস্থিতিতে ছেলেদের অভাবের সংসারে অনেকটা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটে এই বৃদ্ধার। দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য তিনি একটি কার্ড চান।
খুকিমাই বেওয়ার স্বামী আনছার আলী প্রায় ১৫ বছর আগে মারা যান। এর পরই বিধবা জীবনে সন্তানদের নিয়ে নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে আসছেন তিনি। খুকিমাই বেওয়ার তার বড় ছেলে আব্দুস ছালাম এর বাড়ীতে থাকেন। বাসযোগ্য জমি না থাকায় কয়েক বছর আগে ছান্দিয়াপুর ভাটির ছড়ার বাধ সংলগ্ন শতক খানেক জমি কিনে বসতবাড়ী করে। বাড়ি তো নয়, যেন কুড়ে ঘর। বর্তমানে খুকিমাই বেওয়ার শরীরে নানা অসুখে বাসা বাধার কারনে আর ভিক্ষা করতে পারেনা। দাড়ীয়ে থাকলে যেন গোটা শরীর থর-থর করে কাঁপে। শেষ বয়সে একটি ভাতা কার্ডের আঁকুতি জানান তিনি।
সাদুল্লাপুরের রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল করিম দুলা বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু করার নেই। সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের বরাদ্দ অপ্রতুল। খুকিমাইকে ইউএনও অফিসে যোগাযোগ করতে বললেন তিনি।


কোন মন্তব্য নেই
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷