টানে প্রেমিকের বাড়ির সামনে দুই সন্তানের জননী অনশন
গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের ভোলারবাজার এলাকায় প্রেমিকের বাড়ির সামনে অনশন করে মমতা বেগম নামে দুই সন্তানের জননী।
জানা গেছে, সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের ভোলারবাজার এলাকার রাজমিস্ত্রী জুয়েল মিয়ার সাথে রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকার মমতা বেগমের সাথে বিয়ে হয় ১৩ বছর আগে। তাদের বড় মেয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ও ছেলে ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র। জুয়েল মিয়া কর্মের কারণে ঢাকায় অবস্থান করায় প্রতিবেশী আউয়াল মিয়ার ছেলে ইদুল মিয়ার লালসার শিকার হয় মমতা বেগম।
ইদুল মিয়া একই ইউনিয়নের কদমতলা এলাকায় “সারা আউটসোর্স এস্পার্ট লিমিটেডে” কাজ করে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে মমতা বাসায় একা অবস্থান করছিল। সেই সুযোগ ইদুল মিয়া মমতার ঘরে প্রবেশ করে এবং তার সাথে সম্পর্ক করার জন্য চাপ দেয়। ওই সময় এতেও তিনি রাজি না হওয়ায় ইদুল মিয়া মমতার ঘরে ধর্ণার সাথে মমতার ওরনা পেচিয়ে আত্মহত্যা চেষ্টার নাটক করে।
এভাবে একের পর এক কৌশল অবলম্বন করে ইদুল মিয়া মমতার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। তখন থেকেই স্বামী জুয়েল মিয়ার অনুপস্থিতিতে মমতার সাথে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে।
তারা নিয়মিত দৈহিক মেলা মেশার কারণে মমতার গর্ভে সন্তান আসলে ইদুল মিয়া মমতাকে সদর উপজেলার মালিবাড়ী ইউনিয়নের চৌরাস্তা এলাকার রউফ ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়ে গর্ভপাত ঘটায়।
এরপর থেকে মমতাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে ইদুল মিয়া। এনিয়ে দুই পরিবারে কলহ-বিবাদ চলতে থাকে এবং ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। গত ১২ ফেরুয়ারী মমতা বেগমকে আত্মহত্যা করার জন্য ইদুল মিয়া ও তার ছোট ভাই আলাল মিয়া ২০টি ঘুমের ঔষধ কিনে দিলে মমতা বেগম তা খেয়ে ফেলে। এতে মমতা অসুস্থ্য হয়ে পড়লে পরিবারের লোকজন তাকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়।
এব্যাপারে উক্ত ইউপি চেয়ারম্যান শেখ সামাদ আজাদ বলেন, ইদুল মিয়া ও মমতা বেগমের দৈহিক সম্পর্কের কারণে তিন বার গর্ভপাত ঘটায়। এখন মমতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইদুল মিয়া ও তার ছোট ভাই আলাল মিয়া তাকে ঘুমের ঔষধ খাওয়ায় বলে মমতা আমাকে জানায়। এদিকে সুস্থ্য হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে মমতা বেগম ইদুল মিয়ার বাড়িতে গিয়ে উঠে এবং তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইদুলের জ্যাঠা আলমসহ পরিবারের লোকজন মমতাকে মারধোর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।পরে দুপুর থেকে সন্ধ্যে পর্য়ন্ত মমতা বেগম ইদুলের বাড়ির গেটের সামনে মাটিতে শুয়ে সুবিচার পাওয়ার আশায় অনশন করে শুরু করে।
মমতা বেগম জানান, ইদুল মিয়ার কারণে আমি স্বামী, সন্তান ত্যাগ করেছি।সে(ইদুল মিয়া) যদি আমাকে বিয়ে না করে তা হলে আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না।
এব্যাপারে একই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা স্বীকার বলেন, ইদুল মিয়া ও মমতা বেগমের এই ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।ইদুল মিয়া পলাতক থাকার কারণে স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে মমতা বেগমকে রাতে ইদুল মিয়ার বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।


কোন মন্তব্য নেই
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷