পালিয়ে বিয়ে কি অবৈধ? মামলা হলে বাঁচার উপায় কী?
নিজস্ব প্রতিবেদক | আইন ও আদালত
বর্তমানে ভালোবেসে ঘর ছাড়া বা পরিবারের অমতে বিয়ের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। প্রচলিত ভাষায় একে "পালিয়ে বিয়ে" বলা হলেও আইনের দৃষ্টিতে এর চিত্রটি ভিন্ন। ছেলে ও মেয়ে উভয়ই প্রাপ্তবয়স্ক হলে অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াও তাদের বিয়ে করা আইনত সম্পূর্ণ বৈধ। তবে বিপত্তি ঘটে তখনই, যখন মেয়ের পরিবার থেকে ছেলের বিরুদ্ধে 'অপহরণ' বা 'ধর্ষণ'-এর মতো গুরুতর মামলা করা হয়।
আইনি বৈধতার মূল ভিত্তি কী?
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, বিয়ের জন্য ছেলের বয়স সর্বনিম্ন ২১ বছর এবং মেয়ের বয়স ১৮ বছর হতে হবে। এই বয়সসীমা পূর্ণ হলে তারা নিজেদের জীবনসঙ্গী নির্বাচনের পূর্ণ অধিকার রাখেন। মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, যথাযথভাবে কাবিননামা বা নিকাহনামা রেজিস্ট্রি করা থাকলে এই বিয়ে কোনোভাবেই অবৈধ বলার সুযোগ নেই।
মামলা হলে পরিস্থিতি মোকাবেলার কৌশল
বিয়ের পর সাধারণত মেয়ের পক্ষ থেকে থানায় বা আদালতে মামলা করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে আইনিভাবে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে দম্পতিদের জন্য বিশেষজ্ঞরা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন:
বিয়ের প্রমাণপত্র সংগ্রহ: বিয়ের সাথে সাথেই কাজী অফিস থেকে মূল কাবিননামা এবং অনলাইন কপি সংগ্রহ করতে হবে। এটিই বিয়ের প্রধান আইনি দলিল।
বয়সের প্রমাণপত্র: নিজেদের জন্ম নিবন্ধন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা এসএসসি সার্টিফিকেটের কপি সাথে রাখতে হবে যা প্রমাণ করবে তারা নাবালক নন।
আদালতে জবানবন্দি (২২ ধারা): পুলিশ মেয়েকে উদ্ধার করলে তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে জবানবন্দি দিতে হয়। সেখানে মেয়ে যদি নির্ভয়ে বলতে পারে যে, সে স্বেচ্ছায় এবং সজ্ঞানে এই বিয়ে করেছে, তবে অপহরণের মামলা সরাসরি খারিজ হয়ে যায়।
জিডি করা: বিয়ের পরপরই নিকটস্থ থানায় বা ইমেইলের মাধ্যমে পুলিশকে জানানো যেতে পারে যে তারা স্বেচ্ছায় ঘর ছেড়েছেন। এতে পরবর্তীতে অপহরণের মামলা সাজানো কঠিন হয়।
আইনজ্ঞদের পরামর্শ
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের মতে, পালিয়ে বিয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুল হলো বিয়ে রেজিস্ট্রি না করা। অনেকে শুধু নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে 'কোর্ট ম্যারেজ' করে মনে করেন বিয়ে হয়ে গেছে। কিন্তু কাজী অফিসে গিয়ে রেজিস্ট্রি না করলে সেই বিয়ের কোনো আইনি ভিত্তি থাকে না।
মামলা হলে লুকিয়ে না থেকে আইনজীবীর মাধ্যমে উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। এতে গ্রেপ্তার এড়ানো সম্ভব হয় এবং আইনি লড়াই সহজ হয়।
উপসংহার
আইনত প্রাপ্তবয়স্ক দুজনের বিয়ে সামাজিক বা ধর্মীয়ভাবে বিতর্কিত মনে হতে পারে, কিন্তু আইন তাদের সুরক্ষা দেয়। তবে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া (রেজিস্ট্রেশন ও বয়স নিশ্চিত করা) অনুসরণ না করলে এটি চরম বিপদের কারণ হতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷