শবে কদর তালাশের আজ ৩য় রজনী, ২৫ রমজানের রাত!

অনেকের মনে এই ভুল ধারণা রয়েছে যে, সাতাশের রাতই হচ্ছে শবে কদর।
এই ধারণা সঠিক নয়।
সহীহ হাদীসে এসেছে যে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে লাইলাতুল কদর কোন রাত তা জানানো হয়েছিল। তিনি তা সাহাবীদেরকে জানানোর জন্য আসছিলেন, কিন্তু ঘটনাক্রমে সেখানে দুই ব্যক্তি ঝগড়া করছিল। তাদের ওই ঝগড়ার কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে সে রাতের ইলম উঠিয়ে নেওয়া হয়।
এ কথাগুলো সাহাবীদেরকে জানানোর পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- হতে পারে, এতেই তোমাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে।
এখন তোমরা এ রাত (অর্থাৎ তার বরকত ও ফযীলত) রমযানের শেষ দশকে অন্বেষণ কর। সহীহ বুখারী হাদীস নং ২০২০, সহীহ মুসলিম ১১৬৫/২০৯
অন্য হাদীসে বিশেষভাবে বেজোড় রাতগুলোতে শবে কদর তালাশ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৬৫
তাই সাতাশের রাতকেই সুনির্দিষ্টভাবে লাইলাতুল কদর বলা অনুচিত। খুব বেশি হলে এই টুকু বলা যায় যে, এ রাতে লাইলাতুল কদর হওয়ার অধিক সম্ভবনা রয়েছে। তাই অন্যান্য বেজোড় রজনী গুলোও শবে কদর তালাশ করতে হবে, এটাই শরিয়তের দাবি, ইনশা আল্লাহ্।
আবূ হুরাইরাহ (রা) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেনঃ "যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে নেকির আশায় কদরের রাতে ইবাদতের মধ্যে রাত্রি জাগবে, তার পূর্বের গুনাহ্ ক্ষমা করে দেয়া হবে।"
-সহীহ বুখারী ২/ ২০১৪; মুসলিম ২/২৫ ৭৬০
আজ পবিত্র বেজোড় রজনী গুলোর একটি।
জ্বি, ২৫ শে রমজানের রাত। হতে পারে আজই শবে কদর।
আল্লাহু আ'লাম (আল্লাহ্ সুবহানাহু তাআ'লা ভালো জানেন)।
প্রিয় ভাইয়েরা আসুন, আজকের রাতটিকে নফল ইবাদাতে কাটিয়ে দেই, কান্নাকাটি ও রোনাজারি মধ্যমে নিজেদের গুনাহ গুলো মাফ করিয়ে আল্লাহ্র নৈকট্য হাসিলের চেষ্টা করি।

কোন মন্তব্য নেই
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷